মধ্যপ্রাচ্যে ৩০০ এর বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৭:৩০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ার প্রেক্ষিতে পশ্চিমারা মধ্যপ্রাচ্যে বড়সড় সামরিক শক্তি প্রদর্শন করছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় ৩০০টির বেশি সামরিক বিমান মোতায়েন করেছে। এই বৃহৎ সামরিক প্রদর্শনী ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কাকে আরও জোরদার করেছে। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক ওপেন সোর্স গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূলত কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাটি, জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাটি, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাটি এবং সমুদ্রে মার্কিন রণতরী USS Abraham Lincoln ও USS Gerald R. Ford এর মতো যুদ্ধজাহাজগুলো এই বিশাল সামরিক বহরকে স্থানান্তর ও মোতায়েন করেছে। প্রতিবেদন বলছে, জানুয়ারির শুরু থেকে এই বিমান বহর একত্রিত করার জন্য মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) প্রায় ২৭০টি সি-১৭ ও সি-৫ লজিস্টিক বিমান ব্যবহার করেছে। এই ফ্লাইটগুলোতে প্যাট্রিয়ট ও থার্ড অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বহন করা হয়েছে। এই বাহিনীতে মোট ৭০ শতাংশ আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান ও ৩০ শতাংশ সহায়ক বিমান থাকলেও, এতে রয়েছে বড় সংখ্যায় এফ-১৮, এফ-১৫, এফ-১৬ ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। পাশাপাশি বিভিন্ন ভূমিকা পালন করতে সক্ষম ট্যাঙ্কার ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধের জন্য বিশেষ বিমানও রয়েছে। অপর দিকে, গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য মার্কিন বোমারু বিমান B-2 এর কোনও গতি বা পদচারণা নজরে আসেনি। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই বিমান বহরের ব্যাপারে ইসরায়েলও গোপনে বড় ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তারা বলছেন, ইসরায়েলের ৬৬টি এফ-১৫, ১৭৩টি এফ-১৬ ও ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ইরানের বিরুদ্ধে তৎপরতায় প্রস্তুত রয়েছে, যা মার্কিন বাহিনীর শক্তিকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে তুলতে পারে। সাম্প্রতিক ঘটনায়, ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, তারা নতুন করে ১২টি মার্কিন স্টিলথ বিমান এফ-২২ হাতে পেয়েছে, যা এখন ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে আঘাত হানার জন্য ব্যবহার হতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, পরমাণু চুক্তি নিয়ে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আগামী বৃহস্পতিবার তৃতীয় দফার আলোচনা হবে। তবে এর আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছেন, কূটনৈতিক সমাধান চান তিনি, কিন্তু যদি প্রয়োজন পড়ে, তাহলে ‘প্রাণঘাতী শক্তি’ ব্যবহার করতে প্রস্তুত তিনি। তিনি আরও বলেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না, কারণ তারা এখনো এমন মিসাইল তৈরি করছে যা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলা চালাতে সক্ষম। এই জন্য তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে পারে। অন্য দিকে, ইরানের পক্ষ থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে, ফলে আগামী বৃহস্পতিবারের বৈঠক নিয়ে আগ্রহ সবাই বাড়ছে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: