যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যাচ্ছে Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৪১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২১, ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারো সম্ভাব্য আলোচনা শুরু হওয়ার প্রস্তুতি চলছে পাকিস্তানে ব্যাপকভাবে। এর পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অগ্রাহ্য করার অভিযোগে একটি ইরানি কার্গো জাহাজ মাঝ সমুদ্রে আটক করেছে মার্কিন সেনারা। এই ঘটনা বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করে এবং শঙ্কা জাগিয়ে তোলে যে, এর ফলে ইসলামাবাদের মধ্যে আলোচনার ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন না আসার আশঙ্কা বাড়ছে। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আমিন সাইক্যাল বলেন, “ইরানি জাহাজের আটক ঘটনার ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। এই ধরনের পদক্ষেপ সহজেই উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে এবং ইসলামাবাদের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যেতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “যদি দুই পক্ষ সত্যিই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে আগ্রহী, তবে এখনই এমন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয় যা সংঘাতের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।” ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান সংক্রান্ত প্রশ্নে সাইক্যাল মন্তব্য করেন, “একদিকে তিনি সংকটের সমাধান চান বলে দাবি করেন, অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি দিচ্ছেন, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।” তিনি বলেন, যুদ্ধের প্রবণতা কমানোর জন্য যখন সময় অতিক্ত, তখন উভয় পক্ষই চাপের মধ্যেই রয়েছে। তবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী ইরানের জন্য একটি নতুন প্রতিরোধ্য শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। অপরদিকে, তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের Middle East and North Africa Researcher মোহাম্মদ এসলামি বলছেন, “ইরান প্রণালী একবার বন্ধ করে দিয়েছে, সেটি আবার খুলতে চায়। এর পেছনে মূল কারণ হচ্ছে দর-কষাকষির কৌশল।” ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর কোন আলোচনা করবে না। সোমবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয় মুখপাত্র ঈসমাইল বাঘেই এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি অনেকটাই ভঙ্গ করেছে আমেরিকা। তিনি বলেন, “উইশিংটন প্রথম থেকেই চুক্তির শর্ত অমান্য করে নৌবাহিনী অবরোধ চালু রেখেছে, এছাড়া আগেও বিভিন্ন সময়ে হামলা চালিয়েছে। এই বিষয়গুলো ইতিমধ্যে পাকিস্তানসহ অন্য দেশগুলোকেও জানানো হয়েছে।” বাঘেই স্পষ্ট করে বলেন, “তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার কোনও পরিকল্পনা নেই, তবে আমরা সবসময় আমাদের স্বার্থ রক্ষা করবো।” তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “যদি ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনও যুদ্ধ উস্কে দেয় বা সংঘাতের চেষ্টা করে, তবে ইরান তার কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত।” এছাড়াও, ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রথম দফার বৈঠকে ইরান তাদের ১০ দফা দাবি উপস্থাপন করেছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অমিলের কারণে অগ্রগতি হয়নি। তেহরানের এই অবস্থানের পাশাপাশি, তারা অন্য সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকলেও, ভবিষ্যৎ আলোচনাকেও কঠোর অবস্থানে রেখেছেন। পাকিস্তান এখনো পরবর্তী দফার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, কিন্তু ইরানের সঙ্কটজনক অবস্থার জন্য অন্ধকার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্যই এখন অজ্ঞাতনামে এগোচ্ছে, যেখানে ইরান স্পষ্ট করেছে যে, তারা আর কোনও ‘অফলপ্রসূ’ সংলাপে অংশ নেবে না। অন্যদিকে, মার্কিন-ইসরায়েলের যৌথ আক্রমণে ইরানে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩,৩৭৫ জন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের ফলশ্রুতিতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ইরানের লিগাল মেডিসিন অর্গানাইজেশন। প্রধান আব্বাস মাসজেদি জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ২,৮৭৫ পুরুষ এবং ৪৯৬ নারী নিহত হয়েছেন, যদিও এখনও চারজনের মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, প্রথমদিকে মৃত্যুর সংখ্যা জানা যায়নি। পরে বিভিন্ন অঞ্চলের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে নিহতের সংখ্যা নির্ধারিত হয় এবং পরিবারের কাছে মরদেহ পৌঁছে দেওয়া হয়। তিনি জানান, নিহতের বেশিরভাগই সাধারণ মানুষ, শিশুসহ বৃদ্ধ ও বিভিন্ন সরকারি কর্মরত ব্যক্তিরা। বিশেষ করে দক্ষিণের মিনাব শহরের শারজাহ তায়্যিবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই হামলার ঘটনায় ১৬৮টির বেশি শিশু নিহত হয়েছে, যা হৃদয়বিদারক ঘটনা। প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে দেশজুড়ে বিমান হামলা ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর উত্তরে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায়। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: