সৌদি আপত্তির কারণে পাকিস্তানের সুদানে অস্ত্রচুক্তি স্থগিত

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৪১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২১, ২০২৬

সুদানের কাছে ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের আধুনিক যুদ্ধবিমান ও অস্ত্র সরবরাহের একটি বৃহৎ চুক্তি পাকিস্তান স্থগিত করেছে। এই সিদ্ধান্তের নেতৃত্ব দিয়েছে মূলত সৌদি আরবের আপত্তি, যা ইসলামাবাদকে এই বিকল্পের পথে হেলে দিয়েছে। রয়টার্সের সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে এক কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন একটি জটিলতা সৃষ্টি করেছে।

সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী ‘র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস’-এর মধ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাত গত তিন বছর ধরে দেশটিকে মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। লোহিত সাগর তীরবর্তী এই দেশটি বিশাল স্বর্ণখনির জন্য পরিচিত এবং এর অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন বৈশ্বিক শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এরই মধ্যে পাকিস্তানের এই অস্ত্র বিক্রির উদ্যোগ শুরুতে বেশ ইতিবাচক হয়েছিল, বিশেষ করে চলতি বছরের জানুয়ারিতে চুক্তিটি চূড়ান্ত পর্যায় ছিল। তখন এই প্রসঙ্গে মধ্যস্থতা করছিল সৌদি আরব। তবে তখন রিয়াদের অর্থায়নের বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল।

পাকিস্তানের নিজস্ব প্রযুক্তি নীতিতে তৈরি জেএফ-১৭ ‘থান্ডার’ যুদ্ধবিমান বিশ্ববাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায়, এই চুক্তি পাকিস্তানের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। গত বছরের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনার পর দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আন্তর্জাতিক মহলে আরও আলোচিত হয়। তবে বর্তমানে সৌদি আরব বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান সহায়তাকারী হিসেবে পরিচিত, এবং দুই দেশের মধ্যে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায়, এক দেশ আক্রমণ করলে অন্য দেশও সেক্ষেত্রে সহায়তা দিতে বাধ্য, যা পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্তের ফলে পাকিস্তান এই বৃহৎ অস্ত্রচুক্তি থেকে বেরিয়ে এসেছে। নিরাপত্তা সূত্রের মতে, সৌদি আরব এই অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়ানোর পিছনে বিভিন্ন পশ্চিমা দেশের চাপ ও দুশ্চিন্তা রয়েছে। রিয়াদকে আফ্রিকার এই সংঘাতের মধ্যে সরাসরি জড়িয়ে না থাকার পরামর্শ দিচ্ছে তারা। যদিও মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজনৈতিক অবস্থান লক্ষণীয়ভাবে ভিন্ন, সুদান পরিস্থিতিতে তার ব্যতিক্রম হয়নি। আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে রিয়াদের সমর্থন ও সহায়তার অভিযোগ রয়েছে, যা এই অঞ্চলের কৌশলকে আরো জটিল করে তুলেছে।

এই সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু সুদানে সীমাবদ্ধ নয়, বরং লিবিয়ার ন্যাশনাল আর্মির সঙ্গে পাকিস্তানের ৪ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি ঝুঁকিতে পড়েছে। রিয়াদে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর থেকেই এই অর্থায়ন বন্ধের আলোচনা শুরু হয়। পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব বা বিমানবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বললেও, ধারণা করা হয় যে সৌদি আরবের কৌশলগত পরিবর্তন পাকিস্তানের অস্ত্র রপ্তানি পরিকল্পনাকে বেশ প্রভাবিত করতে পারে। আফ্রিকার অস্থির দেশগুলিতে পাকিস্তানের গেজেটেড অস্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনা এখন মূলত রিয়াদের নীতির ওপর নির্ভরশীল।