ইরানে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার খবরে কয়েক ঘণ্টা চিৎকার করেন ট্রাম্প Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ১:০৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২১, ২০২৬ যুদ্ধ চলাকালে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে ইরান। পরবর্তীতে ওই বিমানে থাকা এক পাইলট ও ক্রুকে বিশাল অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করে নিয়ে আসে মার্কিন সেনাবাহিনীর স্পেশাল ইউনিট। সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল রোববার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে এমন খবর জানার পর নিজের সহযোগীদের ওপর কয়েক ঘণ্টা ক্ষোভে চিৎকার করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর যখন যুদ্ধবিমানের পাইলট ও ক্রুকে উদ্ধার অভিযান শুরু হয় তখন ট্রাম্পকে ‘সিচুয়েশন রুম’ থেকে বাইরে রাখা হয় বলে জানিয়েছেন একটি সূত্র। কারণ ট্রাম্পের অধৈর্যতা উদ্ধার অভিযানে ব্যাঘাত ঘটাবে বলে ধারণা ছিল তাদের। ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল আরও জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পরই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। যা পুরো বিশ্বে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি করতে উদগ্রীব হয়ে পড়েন বলে জানিয়েছে ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল। এ ছাড়া হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারাও অবাক হয়ে যান ইরান এত দ্রুত ও সহজে কীভাবে হরমুজ বন্ধ করে দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে অবাক হন ট্রাম্পও। তিনি এমনও মন্তব্য করেন ‘শুধুমাত্র ড্রোন দিয়েই একজন কীভাবে হরমুজ বন্ধ করে দিতে পারে। ‘ পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসসহ ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অভিযানের হালনাগাদ তথ্য নিতে ‘সিচুয়েশন রুমে’ যুক্ত হন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তাকে ফোনে তথ্য দেওয়া হচ্ছিল। ৩ এপ্রিল প্রথম ক্রু উদ্ধার হওয়ার পর, দ্বিতীয় ক্রুকে খুঁজে বের করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামনে সময় ছিল খুবই কম। কারণ তাদের আশঙ্কা ছিল, ইরানি বাহিনী আগেই তাকে আটক করে ফেলতে পারে। অবশেষে প্রথম ক্রু উদ্ধার হওয়ার ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পর ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্টকে জানানো হয়, দ্বিতীয়জনও উদ্ধার হয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সহায়তায় এই উদ্ধার অভিযান সম্ভব হয়েছে। তারাই পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসকে ক্রুদের অবস্থান সম্পর্কে জানিয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এটি ছিল খড়ের গাদায় সুই খোঁজার মতো কাজ। তবে এ ক্ষেত্রে সে সুই হলো এক সাহসী মার্কিন প্রাণ, যিনি পাহাড়ের খাঁজে লুকিয়ে ছিলেন। সিআইএর বিশেষ প্রযুক্তি ছাড়া তাকে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব ছিল।’ উদ্ধার অভিযান চলার সময় ইরানি বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টায় সিআইএ একটি প্রচারণা চালিয়েছিল। তারা ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দিয়েছিল যে নিখোঁজ ক্রুকে খুঁজে পাওয়া গেছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবর অনুসারে, ট্রাম্প মধ্যরাতের দিকে ট্রুথ সোশ্যালে অভিযানের সাফল্যের কথা প্রচার করেন এবং রাত দুইটায় ঘুমাতে যান। তিনি লিখেছিলেন, ‘এই সাহসী যোদ্ধা ইরানের দুর্গম পাহাড়ের শত্রুসীমানায় ছিলেন। শত্রুরা তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল ও প্রতি ঘণ্টায় তারা তার আরও কাছে চলে আসছিল।’ SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: