পরিবেশদূষণে ভালুকায় বন্ধ হলো টেক্সটাইল কারখানার ড্রেন

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ১:০৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০২৬

ময়মনসিংহের ভালুকায় ‘এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল’ নামে একটি কারখানার বর্জ্য পানি

পরিবেশ দূষণের অভিযোগে নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

ছাড়পত্রের শর্ত লঙ্ঘন করে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে বর্জ্য পানি ফেলার অভিযোগে

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে কারখানাটির ড্রেনেজ লাইন বন্ধ করা হয়।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে আশপাশের

ব্যক্তি মালিকানাধীন কৃষিজমিতে অপরিশোধিত বর্জ্য পানি ফেলছিল। মিল কর্তৃপক্ষ

অবৈধভাবে স্থাপিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে শিল্প বর্জ্য নিষ্কাশন করে আসছিল, যা

সরাসরি ফসলি জমিতে প্রবাহিত হয়ে পরিবেশ ও কৃষির মারাত্মক ক্ষতি করছে বলে অভিযোগ

ওঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি পরিদর্শক দল ঘটনাস্থল

পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পায়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে কারখানার বর্জ্য পানি

নিষ্কাশনের ড্রেনেজ লাইন বন্ধ করে কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল

হোসাইন, পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের

পরিদর্শক মো. রুকন মিয়া এবং কৃষকদের পক্ষে প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন।

কৃষক প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন বলেন, ‘দীর্ঘ প্রায় ১৬–১৭ বছর ধরে

এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল মিল ও হ্যারি ফ্যাশন লি.-এর অবৈধ বর্জ্যে ভরাডোবার ৩৩৫.৭৪

একর ফসলি জমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কৃষকরা প্রায় ৩৩ কোটি টাকার

ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, যা সরকারি তদন্তেও প্রমাণিত হয়েছে। আমরা দ্রুত সুপারিশকৃত

ক্ষতিপূরণ কৃষকদের মাঝে বণ্টন এবং পরিবেশ রক্ষায় ক্ষতিকর ডায়িং ইউনিট বন্ধ বা

স্থানান্তরের জোর দাবি জানাচ্ছি।

পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ছাড়পত্রের

শর্তানুযায়ী অপরিশোধিত তরল বর্জ্য ও ডমেস্টিক বর্জ্য নির্ধারিত স্টিল পাইপলাইনের

মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে নিষ্কাশনের কথা থাকলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা অনুসরণ

করেনি। তারা আশপাশের ব্যক্তি মালিকানাধীন কৃষিজমিতে বর্জ্য ফেলছিল। এ কারণে উপজেলা

প্রশাসনকে ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধের সুপারিশ করা হয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল হোসাইন জানান, পরিবেশ

অধিদপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে সরেজমিন পরিদর্শন শেষে বর্জ্য পানি নিষ্কাশনের

ড্রেনেজ লাইন বন্ধ করা হয়েছে।