ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নতুন কূপে খনন শুরু, দিনে মিলবে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৮:০২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাস ফিল্ডে দেশের প্রথম গভীর অনুসন্ধান কূপ তিতাস-৩১ এর

খনন কাজ শুরু হয়েছে। খনন শেষে এই কূপ থেকে প্রতিদিন ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার

আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। রোববার দুপুরে সদর উপজেলার বুধল এলাকায় কূপটির খনন কাজের

উদ্বোধন করেন পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) একেএম. মিজানুর রহমান।

জানা গেছে, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) পরিচালিত তিতাস

গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদনে থাকা ২২টি কূপ থেকে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩২৫ মিলিয়ন

ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস উত্তোলনের ফলে

মজুত এবং চাপ কমেছে দেশের সবচেয়ে প্রাচীন এই গ্যাস ফিল্ডের সবকটি কূপে। এতে করে

কমেছে উৎপাদন। এ অবস্থায় গ্যাসের নতুন উৎস খুঁজতে ‘থ্রিডি সাইসমিক জরিপ প্রকল্প’

নেয় বিজিএফসিএল। এর প্রেক্ষিতে তিতাস ও বাখরাবাদ ফিল্ডে খনন করা হচ্ছে দুইটি গভীর

অনুসন্ধান কূপ। ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতায় তিতাসের নতুন কূপটি খননে সময় লাগবে প্রায়

৭ মাস। খনন কাজ করছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিসিডিসি। খনন শেষে কূপটি থেকে

প্রতিদিন উত্তোলন করা হবে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক জানান, তিতাসসহ

বিজিএফসিএল পরিচালিত অন্যান্য ফিল্ডগুলো থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে নতুন কূপ খনন ও

পুরনো কূপের ওয়ার্কওভার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তিতাস ও বাখরাবাদ ফিল্ডে দুইটি গভীর

অনুসন্ধান কূপ সফলভাবে খনন করতে পারলে এই জ্বালানি খাতের জন্য মাইলফলক হবে।

জ্বালানি সংকট অনেকটাই কেটে যাবে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) একেএম. মিজানুর রহমান বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা

নিশ্চিতে চলতি বছরের মধ্যে ৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য

যুদ্ধ প্রেক্ষাপটে দেশীয় জ্বালানির উৎস অনুসন্ধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ অবস্থায়

তিতাসের এই গভীর অনুসন্ধান কূপ খননের উদ্দেশ্য সফল হলে জ্বালানি সংকট অনেকটাই কেটে

যাবে।

খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি

লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক, কোম্পানি সচিব মোজাহার

আলী, প্রকল্প পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব, খনন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পরিচালক

লাইলিনজেন্টসহ বিজিএফসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি খাতে নতুন

সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।