ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নতুন কূপে গ্যাস খননে উদ্যোগ, দিনে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট উৎপাদনের আশা

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাস ফিল্ডে দেশের প্রথম গভীর অনুসন্ধান কূপ তিতাস-৩১ এর খনন কাজ শুরু হয়েছে। এই নতুন কূপ থেকে প্রতিদিন ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার আশা করা হচ্ছে, যা দেশের গ্যাস চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। খনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন রোববার দুপুরে স্থানীয় বুধল এলাকায় সরাসরি উপস্থিত থেকে করেন পেট্রোবাংলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম. মিজানুর রহমান।

জানা গেছে, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) পরিচালিত তিতাস গ্যাস ফিল্ডের বিভিন্ন কূপ থেকে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৩২৫ মিলিয়নের বেশি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা জাতীয় গ্রিডে পৌঁছে যাচ্ছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস উত্তোলনের ফলে এই ফিল্ডের মজুত এবং চাপ কমে আসছে, ফলে উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে 새로운 গ্যাসের উৎস খুঁজতে বিজিএফসিএল ‘থ্রিডি সাইসমিক জরিপ প্রকল্প’ গ্রহণ করেছে। এর আওতায় তিতাস ও বাখরাবাদ ফিল্ডে দুইটি গভীর অনুসন্ধান কূপ খননের কাজ চলছে।

নতুন এই কূপটি ৫,৬০০ মিটার গভীরে খনন করা হবে, যা সম্পন্ন করতে প্রায় ৭ মাস সময় লাগবে। এই কাজ পরিচালনা করছে চীনা প্রতিষ্ঠান সিসিডিসি। খনন শেষে, এই কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে।

বিজিএফসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক জানান, পুরনো কূপের ওয়ার্কওভার প্রকল্পের পাশাপাশি নতুন কূপের খনন নিশ্চয়ই দেশের গ্যাস উৎপাদন বাড়াবে। তিতাস ও বাখরাবাদ ফিল্ডে সফল ভাবে এই গভীর খনন কার্যক্রম সম্পন্ন হলে জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ এক মাইলফলক স্থাপন হবে, যা দেশের জ্বালানি সংকট কিছুটা কমিয়ে আনতে সহায়ক হবে।

পেট্রোবাংলার পরিচালকের মতে, চলতি বছরেই দেশের জন্য ৫০টি নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের গুটের পরিস্থিতির মধ্যে, দেশের নিজস্ব জ্বালানি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক, কোম্পানি সচিব মোজাহার আলী, প্রকল্প পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব, খনের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সিসিডিসির প্রতিনিধি লাইলিনজেন্টসহ বিজিএফসিএলের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

বিশ্লেষকরা আশা করছেন, এই প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে এবং দেশের সম্পদ ব্যবহারে নতুন সাফল্য আসবে।