অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে টিসিবির ভর্তুকি ৬৮৪ কোটি টাকা

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০২৬

দেশের স্বল্প আয়ের মানুষের মাঝে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিতে দেশের ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে, টিসিবির পণ্য ক্রয় ও বিক্রয় মূল্যের মধ্যে ব্যবধানের কারণে ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৮৪ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৩১ টাকা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের ভর্তুকি প্রদান করতে সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি চিঠি পাঠিয়েছে অর্থ বিভাগে, যেখানে এই প্রস্তাবের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ‘এম এ ফজল অ্যান্ড কোং’ নামে সিএ ফার্মের মাধ্যমে টিসিবির হিসাব নিরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর। চুক্তি অনুযায়ী, এই ভর্তুকির প্রস্তাব চূড়ান্ত স্বীকৃতি পেয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্যে টিসিবি নির্দিষ্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর কাছে বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল ও ছোলার মতো প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করে আসছে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে খোলা ট্রাকের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে সরাসরি পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। মূলত আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার থেকে উচ্চ দামে পণ্য কিনে তা জনস্বার্থে কম মূল্যে বিক্রির কারণেই এই বিশাল অঙ্কের ভর্তুকির প্রয়োজন পড়ে।

তবে এই ভর্তুকির পরিমাণ বাড়ার পেছনে টিসিবির নিজস্ব কিছু প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা এবং ঋণের উচ্চ সুদের হারকে অন্যতম দায়ী বলে জানা গেছে। টিসিবির নিজের কোনো স্থায়ী তহবিল না থাকায়, পণ্য সংগ্রহের জন্য সংস্থাটিকে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির ভিত্তিতে ব্যাংক থেকে বড় অংকের ঋণ নিতে হয়। বর্তমানে, এলটিআর (LTR) ঋণের সুদ হার ১২ দশমিক ৯০ শতাংশ, যা বহুগুণ উচ্চ। ক্রয়মূল্যের তুলনায় কম দামে পণ্য বিক্রি এবং ঋণের সুদ, পাশাপাশি ডিলারদের পরিচালন ব্যয়—এই তিন ধরনের চাপের কারণে প্রতিবছর টিসিবির ভর্তুকির পরিমাণ বাড়ছে।

অতীতে দেখা গেছে, টিসিবির ভর্তুকি প্রদান জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল মাত্র ৮২ কোটি টাকা, তবে কোভিড-১৯ মহামারি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে তা বেড়ে ১ হাজার Coleবিশ্লেষিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই ভর্তুকি কিছুটা কমে ১ হাজার ৪১২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছিল। তবে বাজার পরিস্থিতি ও প্রকৌশলী খরচ বিবেচনায়, ধারণা করা হচ্ছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষে এই ভর্তুকির মোট পরিমাণ প্রায় ২৭০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে ভোজ্যতেল ও মসুর ডালের মতো আমদানিনির্ভর পণ্যের জন্য সরকার ক্রয়মূল্যের অর্ধেকেরও বেশি টাকা ভর্তুকি হিসেবে বহন করছে।

বর্তমানে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দেশের প্রায় এক কোটি পরিবার প্রতি মাসে দুই লিটার ভোজ্যতেল, দুই কেজি মসুর ডাল এবং এক কেজি চিনি স্বল্প দামে কিনে থাকছে। দ্রব্যমূল্যের উপার্জনশীলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই কার্যক্রম সাধারণ মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাদের চিঠিতে বলেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে টিসিবিকে যথাযথভাবে শক্তিশালী করা অপরিহার্য। এই ঘাটতি পূরণের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় দ্রুত অর্থের তহবিল মুক্ত করলে, সংস্থাটির ব্যাংক ঋণের দায় পরিশোধ ও ভবিষ্যতের পণ্য সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। অন্যথায় পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং বাজারের স্থিতিশীলতা অক্ষুণ্ণ রাখতে সমস্যা হবে।