মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির আলোকে বিশ্ববাজারে বড় উত্থান Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৩৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০২৬ মধ্যপ্রাচ্যের সাত সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ও শান্তির সংকেতের জোরালো প্রভাব পড়েছে বিশ্বের শেয়ারবাজারে। দীর্ঘ দিন ধরে চলা এই সংঘাতের অবসান ও কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার খবর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি এবং আত্মবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে। এই ইতিবাচক পরিবর্তনের ফলে শুক্রবারের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় শেয়ারবাজারে সূচকগুলোর উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও এপি সূত্রে জানা গেছে, এই শান্তি আলোচনার খবর বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব পরিবর্তনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আশ্বাসও এই বাজারের উচ্ছ্বাসে বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন শীঘ্রই একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি করতে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি, ইসরায়েল-হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনব্যাপী সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়াকে অনেকেই ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন। ট্রাম্পের এই বার্তা ও হিজবুল্লাহকে শান্তি মেনে চলার আহ্বান বিশ্ববাজারে স্বস্তির বাতাবরণ সৃষ্টি করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ওয়াল স্ট্রিটের সূচকে। শুক্রবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের মূল শেয়ারবাজারের সূচকগুলো উর্ধ্বমুখী দেখা গেছে। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ ফিউচার ৩৬৭ পয়েন্ট বা দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে। একই সঙ্গে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক দশমিক ৪৯ শতাংশ ও নাসডাক ১০০ প্রায় দশমিক ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি ও শান্তির আভাসে বিনিয়োগকারীরা প্রযুক্তি ও সফটওয়্যারসহ ঝুঁকিপূর্ণ but লাভজনক খাতে নতুন করে বিনিয়োগ শুরু করেছেন। তবে, কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, এই উত্থান সাময়িক হতে পারে এবং অস্থিরতা ফিরে আসার ঝুঁকি রয়েছে যদি আলোচনায় ব্যর্থতা আসে। শান্তির এই প্রভাব শুধু শেয়ারবাজারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং বিশ্বজ্বালানি বাজারেও কিছু নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। সংঘাতের ঝুঁকি কমে আসায় নির্দিষ্ট দামে জ্বালানি তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমে গেছে। আভ্যন্তরীণ বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এখন প্রায় ৯৬ ডলার ১৫ সেন্ট। যুদ্ধের শুরুতে তেলের দাম যেখানে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল, এখন সেখানে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। তবে, সরবরাহ চেইনে কিছু উদ্বেগ baki রয়ে গেছে, বিশেষ করে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালী এখনো পুরোপুরি সচল না। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইএএ) সতর্ক করে বলেছে, দ্রুত পরিস্থিতির সমাধান না হলে ইউরোপে বিমানের জ্বালানি সংকট বৃদ্ধি পেতে পারে। ব্যক্তিগত কোম্পানিগুলোর শেয়ারেও শুক্রবার কিছুটা মিশ্র পরিস্থিতি দেখা গেছে। জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের মূল্য প্রায় ১০ শতাংশ পড়ে যায়। এর কারণ, সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিড হেস্টিংসের ২৯ বছর পর পদত্যাগের ঘোষণা ও ভবিষ্যৎ আয়ের দিক থেকে দুর্বল পূর্বাভাস। অন্যদিকে, এশিয়ার বাজারে জাপানের নিক্কেই এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক কিছুটা নিম্নমুখী হলেও, হংকংয়ের এক নতুন এআই সফটওয়্যার কোম্পানি ‘ম্যানিকোর টেক’ তাদের প্রথম দিনেই ১৪০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি দেখাতে সক্ষম হয়েছে। সপ্তাহের শেষের দিকে বিনিয়োগকারীরা এখন নজর দিচ্ছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কত দিন স্থায়ী হবে, সেটি দেখার জন্য। SHARES অর্থনীতি বিষয়: