বাংলাদেশ ব্যাংক আরও ৫০ মিলিয়ন ডলার ক্রয় করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করছে Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৩৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০২৬ দেশে প্রবাসে আয় বা রেমিট্যান্সের প্রবাহ দৃঢ় থাকা ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ আরও ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনে এই মুদ্রার বাজারে নতুন সংযোজন করেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র অনুযায়ী, দেশের চারটি ব্যতিক্রমী ব্যাংক থেকে এই পরিমাণ ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিটি ডলার কেনা হয়েছে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে। মূল উদ্দেশ্য হলো বৈদেশিক মুদ্রার পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দেশের রিজার্ভ শক্তিশালী করার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া। এই ক্রয়ের মাধ্যমে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডলার সংগ্রহের ধারাবাহিকতা আরও এগিয়ে গেল। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই এপ্রিল মাসে, দেশের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে মোট ১২ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়াও, অর্থবছর শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ব্যাংকগুলো থেকে মোট ৫ হাজার ৬১৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার ডলার কেনা হয়েছে। ডলার ক্রয়ের এই ট্রেন্ড দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য শান্তির বার্তা দিচ্ছে বিশ্লেষকরা। অর্থনীতির এই ইতিবাচক উন্নয়নের পেছনে মূল চালক হিসেবে কাজ করছে প্রবাসীদের পাঠানো অগণিত রেমিট্যান্স। সম্প্রতি মার্চ মাসে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৩৭৫ কোটি টাকা), যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাস আয়ের রেকর্ড। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাঁদের পরিবারের খুশির জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছেন, যা সরাসরি দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনে নেওয়ার ফলে বাজারে তরলতা বাড়বে এবং ডলারের বিনিময় হার সীমার মধ্যে থাকবে। এতে করে আমদানিকারকদের জন্য সুবিধা হবে, এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে। অর্থনীতিবিদরা আশা করছেন, রেমিট্যান্সের এই ধারা অব্যাহত থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমানো আরও সহজ হয়ে যাবে। তবে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, এই অগ্রগতি প্রবাসীদের ডিজিটাল ও বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রতি বেড়ে চলা আস্থারও প্রমাণ। এটি একদিকে দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলাকে আরও সুদৃঢ় করে, অন্যদিকে বৈশ্বিক আর্থিক পরিস্থিতির পরিবর্তনে দেশের ভিতকে আরও মজবুত করবে। SHARES অর্থনীতি বিষয়: