মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির আশায় বিশ্ব পুঁজিবাজারে বড় উত্থান

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ সাত সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান এবং ইতিবাচক সংকেতের কারণে বিশ্ব পুঁজিবাজারে পুনরায় প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। এই অঞ্চলটির চলমান সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও লেবাননের মধ্যে আলোচনা, দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কাটিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে—এমন গভীর প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা ফের বাজারমুখী হয়েছেন। এর ফলে শুক্রবারের শেয়ারবাজারের লেনদেন শুরুর আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে সূচকের অগ্নিপরীক্ষা দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও এপির প্রতিবেদনে জানা গেছে, শান্তি আলোচনা ও সম্ভাব্য সমাধানের খবর বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাসের সৃষ্টি করেছে।

বাজারের এই অস্থিরতা কমার পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আশ্বাসবাণীর বড় অবদান রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসানকল্পে ওয়াশিংটন খুব শিগগিরই একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি সম্পন্ন করতে যাচ্ছে। পাশাপাশি, ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতিও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক অনুভূতি সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্পের এই বার্তার পর থেকেই বিশ্ববাজারে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়, যা ওয়াল স্ট্রিটের সূচকগুলিতে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

শুক্রবারের মার্কিন বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, লেনদেন শুরুর আগেই তিনটি প্রধান সূচকই ছিল উর্ধ্বমুখী। ডাউ জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজের ফিউচার দশমিক ৭৫ শতাংশ বা ৩৬৭ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং নাসডাক ১০০ প্রায় দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নয়নের আশায় বিনিয়োগকারীরা এখন ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু লাভজনক প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার খাতে নতুন করে বিনিয়োগ করছে। তবে কিছু বিশ্লেষক যেমন আইফোরেক্সের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই উত্থান মানসিক উচ্ছ্বাসে ভরা হতে পারে। তাদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের আলোচনা প্রত্যাশিত মত ফল না দেয়, তাহলে আবারও বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

শান্তি আলোচনার ইতিবাচক প্রভাব কেবল শেয়ারবাজারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও এর পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সংঘাতের ঝুঁকি কমায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম হয়তো ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলার ১৫ সেন্টে এসে ঠেকেছে, যা ফেব্রুয়ারির শুরুতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অনেকটাই কম। তবে সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে, বিশেষ করে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ থাকায় হরমুজ প্রণালি এখনো সম্পূর্ণরূপে সচল হয়নি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইএএ) সাবধান করে বলেছে, যদি দ্রুত পরিস্থিতির সমাধান না হয়, তাহলে ইউরোপে জেট ফুয়েলের সংকট দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে, ব্যক্তিগত কোম্পানিগুলোর শেয়ারমূল্য শুক্রবার মিশ্রচিত্র দেখিয়েছে। জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের শেয়ার প্রায় ১০ শতাংশ কমে গেছে, যার কারণ হিসেবে বিনিয়োগকারীরা প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিড হেস্টিংসের ২৯ বছরের দীর্ঘ টেকের কার্যক্রম থেকে পদত্যাগের ঘোষণা ও ভবিষ্যৎ আয় নিয়ে দুর্বল পূর্বাভাসকে দায়ী করছেন। অন্যদিকে, জাপানি নিক্কেই এবং হংকংয়ের হংকং হ্যাং সেং সূচক কিছুটা নিম্নমুখী থাকলেও, নতুন এআই সফটওয়্যার কোম্পানি ‘ম্যানিকোর টেক’ তার প্রথমদিনেই ১৪০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি দেখিয়েছে। সপ্তাহের শেষ দিকে এসে বিনিয়োগকারীরা এখন বাৎসরিক অর্থনীতির কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন।