কনকচাঁপার সঙ্গে অসৌজন্য আচরণের কঠোর সমালোচনা ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৩২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চাইছিলেন জনপ্রিয় গীতশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। তবে পরে দল তাকে মনোনীত করেনি। গতকাল শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে কিছু নারী নেতা-কর্মী তার ওপর অপ্রত্যাশিতভাবেই হট্টগোল শুরু করে। তারা বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক স্লোগান দেন এবং কনকচাঁপাকে উষ্ণভাবে সমর্থন না জানিয়ে করুণ আচরণ করেন। এরপর অন্য সহকর্মীদের সহযোগিতায় তিনি অবশেষে তার মনোনয়নপত্র জমা দিতে সক্ষম হন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, যারা এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছে এবং এতে লিপ্ত রয়েছে তাঁদের আচরণে সাংস্কৃতিক অভাব ও অসংস্কৃতির ছাপ স্পষ্ট। এই ধরনের আচরণ অত্যন্ত দোষারোপপূর্ণ। রিজভী মন্তব্য করেন, এখন দেশের অন্য কোনও দল বা সংগঠনে কি এমন অবস্থা দেখা যায় যেখানে শিল্পীরা রাজনৈতিক উদ্যোগে এগিয়ে আসতে চাইছে? এই ক্ষেত্রে আরও দৃষ্টান্ত আছে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মধ্যে। তিনি বলেন, একজন বড় শিল্পী দলের জন্য বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অবদান রাখতে পারেন, বিশেষ করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এবং আন্দোলনে। একজন শিল্পীর পক্ষে আন্দোলনে সরাসরি অংশ নেওয়া বা মাঠে নেমে আন্দোলন চালানোর প্রয়োজন নেই, বরং তিনি নিজের মতো করে সমর্থন জানাতে পারেন। রিজভী আরও বলেন, অসদুপায় অবলম্বন করা এসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে কনকচাঁপা নিজের প্রতি অন্যায় প্রতিপন্ন করার অভিযোগ করেন এবং এই বিষয়টি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেন। পোস্টে তিনি দলের প্রতি আনুগত্যের কথা তুলে ধরে বলেন, তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ২০১৩ সালে, যখন তিনি বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে রাজনৈতিক দিকে कदम রাখেন। তিনি সেই সময় সরাসরি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, যা কঠিন হলেও তিনি দলটির নির্দেশ মেনে এগিয়ে আসেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ থেকে মনোনয়ন পান, যদিও এই যাত্রা সহজ ছিল না। তার অসংখ্য সংগ্রাম, নির্যাতন ও ক্ষতি স্বীকার করেছেন, তবে তার চেয়ে বেশি মনোযোগের বিষয় হলো, তিনি কতটা নিষ্ঠার সঙ্গে দলের জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি বলেন, আমি একজন সাধারণ জনমানুষের কাল্পনিক একজন কণ্ঠশিল্পী, কিন্তু আমি সত্যিই বিশ্বাস করি, একবারও মনে হয়নি যে আমাকে এইরকমভাবে অবজ্ঞা বা অসম্মান করা উচিত। আমার এই ক্যারিয়ার হারানো, মানসিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে—তা বুঝিয়ে বলতে পারি না। এই সব কষ্ট সহ্য করতে গিয়ে আমি দুই চোখে অনেক কিছু দেখেছি, অনেক ক্ষতি সহ্য করেছি। তবে আমি নিজেকে গর্ব করি, নিজের দায়িত্ববোধের জন্য। আমি সবসময় বলেছি, আমার জন্য জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য যে বৈধ অধিকার আছে, সে অনুযায়ী আমি পেরেছি। আমি এই দলে কাজ করতে গিয়ে অনেক বাধা-প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু তা স্বীকার না করে নিজের দায়িত্বে থাকি। তবুও কিছু অপপ্রচার এবং অপ্রস্তুত ঘটনা আমার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনকে ব্যাহত করে। আমি বিশ্বাস করি, এই সব অপপ্রচার ও মিথ্যাচার একদিকে দলের ক্ষতি করে, অন্যদিকে আমার সম্মানক্ষুণ্ণ করে। এটাই আমার অনিচ্ছাকৃত আর একটিই শুভেচ্ছা। SHARES রাজনীতি বিষয়: