এবারও হরমুজ পার হওয়ার অনুমতি পেল না ‘বাংলার জয়যাত্রা’

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০২৬

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে বাংলাদেশির জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা পর নৌকার মাঝিরা প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন হরমুজ পার করতে। বাংলাদেশের শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) এই জাহাজটি পারস্য উপসাগরের দিকে রওনা দিয়ে কিছু সময়ের জন্য এগিয়ে ছিল। তবে হরমুজ পার হওয়ার মুহূর্তে ইরানের সেনার কঠোর নিয়ন্ত্রণে পড়তে হয়। বেতার মাধ্যমে জানানো হয়, জাহাজটি যেন দ্রুত ফিরে আসুক এবং নিরাপদ আশ্রয়ে পুনরায় পারস্য উপসাগরে ফিরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নির্দেশ পাওয়ার পরে জাহাজটি দ্রুত ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং আবারও পারস্য উপসাগরের নিরাপদ এলাকায় অবস্থান করে। জাহাজের ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা শুনে আমরা রাত প্রায় পৌনে ১টায় হরমুজ পার করতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু ইরানি বাহিনী আমাদের অনুমতি দেয়নি। নির্দেশনা অনুযায়ী, আবারও পারস্য উপসাগরে ফিরে আসছি।’ এর আগে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছিলেন, রাত ১১টা ৫০ মিনিটে বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ করেছে এবং রাত ৩টার মধ্যে হরমুজ অতিক্রমের লক্ষ্য ছিল। তবে ইরানের কর্তৃপক্ষ এই প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেয়। মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, একের পর এক জাহাজ হরমুজ প্রণালি থেকে ফিরে আসে। বাংলার জয়যাত্রাও এরই মধ্যে তালিকা থেকে নাম মুছে গেছে। এই জাহাজটি ২ ফেব্রুয়ারি থেকে পারস্য উপসাগরে অবস্থান করছিল। প্রথমে এটি পাশের এক বন্দরে পণ্য পরিবহনের জন্য পাঠানো হয়। মার্চের শুরুতে বিএসসি জাহাজটি ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করলেও অনুমতি না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। তখন, জাহাজটি সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে যায়। এই সার তারা দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে পৌঁছাবার জন্য রওনা দিয়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতির পর তারা আবার অনুমতির জন্য চেয়েও পাননি। ফলে, মিসর ও হরমুজের কাছাকাছি পারস্য উপসাগরে নোঙর করে অপেক্ষা করতে থাকেন। শুক্রবার ধাপে ধাপে হরমুজ পারাপারের জন্য আবার চেয়েছিলেন, তবে শেষ মুহূর্তে ফেরত যেতে বাধ্য হন, যা ভারতীয় শিপিংদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।