বেগম খালেদা জিয়ার পুরস্কার গ্রহণ করেছেন জাইমা রহমান

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল এবং কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান করা হয়েছে। এই পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামও রয়েছে, তবে তিনি এখন ব্যক্তিগত কারণে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার গ্রহণ করেননি। তার পরিবর্তে তার নাতনী জাইমা রহমান বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এই সম্মাননা গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ীদের মাঝে এই পদক ও সম্মাননাপত্র তুলে দেন। বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তার দাদীর পক্ষ থেকে এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি গ্রহণ করেন। এই পুরস্কার প্রদান অর্থাৎ স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষা, নারী শিক্ষার প্রসার এবং দেশের উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তার সম্মাননা দেওয়া হয়। এবার ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। পদকপ্রাপ্তদের জন্য রয়েছে ১৮ ক্যারেটের ৫০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণপদক, পাঁচ লাখ টাকার চেক, একটি পদকের কপি ও স্বীকৃতি পত্র। এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি পেয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা ক্যাটাগরিতে প্রয়াত মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্য ক্ষেত্রে মরণোত্তর সম্মাননা পান লেখক আশরাফ সিদ্দিকী। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’ এর উপস্থাপক এ কে এম হানিফ এবং সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদও এই সম্মাননা পান। ক্রীড়া ক্ষেত্রে অবদানের জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান লিনু। সমাজসেবায় তিনজনকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়; তারা হলো গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক ও শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর)। এছাড়াও জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু) এই সম্মাননা লাভ করেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ। এছাড়া চিকিৎসাবিদ্যার ক্ষেত্রে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), ও সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়। প্রাপ্ত এই পুরস্কারটি ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সরকারের উদ্যোগে প্রদান হয়ে আসছে, যা বাংলাদেশ স্বাধীনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান সংহত করার জন্য দিন উত্সবের সময় দেয়া হয়ে থাকে। আজকের এই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৬ সালের বিজয়ীদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হলো।