প্রধানমন্ত্রীর বলনে, প্রতিশোধ নয়, জাতীয় ঐক্যই দেশের মূল শক্তি

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের সার্বিক অগ্রগতি এবং স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে হলে প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসা ছেড়ে দিয়ে একতা ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, বিভাজন বা অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের মাধ্যমে দেশকে দুর্বল করতে চাইছে কেউ, কিন্তু আমাদের জন্য একটাই পথ—সৌহার্দ্য ও শান্তি বজায় রেখে অগ্রসর হওয়া।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের অবদান এবং শহীদ ও আহতদের স্মৃতি আমাদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। সেই সব স্বাধিকার আর আত্মত্যাগের জন্য নিজেদের গর্বিত মনে করে থাকি। তিনি আরো বলেন, ‘জাতীয় নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনে দ্বিধা থাকা হীনম্মন্যতার লক্ষণ এবং ইতিহাসের সত্য মেনে নেওয়াই একান্ত প্রয়োজন। ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বদেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্মরণ করে তিনি উল্লেখ করেন, সেই সময়ে তিনি বাংলাদেশের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কার প্রবর্তন করেছিলেন। এ বছর মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁদের অবদানের জন্য দেশের গর্ব।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি কথা বলতে গিয়ে বলেন, দুর্নীতি, দুঃশাসন এবং অর্থনীতির দুর্বলতায় দেশের ধীরগতি। কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জনস্বার্থে আইনশৃংখলা উন্নয়ন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলন চালাচ্ছে সরকার। উল্লেখ করেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকরনের জন্য বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, জনগণের দুর্ভোগ কমানোর জন্য সরকার বিপুল ভর্তুকি দিচ্ছে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং তারা জনসেবায় নিবেদিত। দেশবাসী বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই।’ পাশাপাশি, তিনি দেশপ্রেম ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে বিলাসিতা ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এড়াতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গদের সম্মাননা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের দীর্ঘায়ু ও দেশের সম্মান বৃদ্ধির প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। এ বছর মোট ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এই সর্বকনিষ্ঠ দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হয়।