অস্ট্রেলিয়ার জিলং তেল শোধনাগারে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৮:০৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৬, ২০২৬ বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের চরম উত্তেজনার মাঝেই বড় ধরণের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির মেলবোর্ন শহরের অদূরে জিলংয়ের কোরিও এলাকায় অবস্থিত ‘ভিভা এনার্জি’র একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার মধ্যরাতের ঠিক আগে শুরু হওয়া এই অগ্নিকাণ্ড ও শক্তিশালী বিস্ফোরণ দেশটির অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে নতুন করে এক বড় ধরণের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারী সূত্র জানিয়েছে, বুধবার রাতে এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং মুহূর্তের মধ্যে শোধনাগারটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে দ্রুততম সময়ে দমকল বাহিনী ও জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আগুনের লেলিহান শিখা এতটাই তীব্র ছিল যে তা নেভাতে হিমশিম খেতে হয় উদ্ধারকারীদের। টানা ১৩ ঘণ্টা জ্বলতে থাকার পর আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে অত্যন্ত স্বস্তির বিষয় হলো, দুর্ঘটনার সময় শোধনাগারে কর্মরত সকল কর্মীকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল, যার ফলে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। এই শোধনাগারটি অস্ট্রেলিয়ার সামগ্রিক জ্বালানি অবকাঠামোর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত। এটি কেবল ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের অর্ধেকের বেশি জ্বালানি চাহিদাই মেটায় না, বরং সমগ্র অস্ট্রেলিয়ার মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ১০ শতাংশ নিশ্চিত করে। অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বোয়েন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ফলে শোধনাগারটির পেট্রোল উৎপাদন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দেশের বিমান চলাচল ও জরুরি পরিবহন খাত সচল রাখতে ডিজেল ও জেট ফুয়েলের উৎপাদন সীমিত পরিসরে চালিয়ে যাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক ও জ্বালানি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অগ্নিকাণ্ড অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতির জন্য এক চরম দুঃসংবাদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনার জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বর্তমানে এমনিতেই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বৈশ্বিক এই সংকটের কারণে অস্ট্রেলিয়া আগে থেকেই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি সংগ্রহে চাপের মুখে ছিল। এমতাবস্থায় নিজেদের প্রধান একটি শোধনাগার অচল হয়ে পড়ায় দেশজুড়ে তেলের তীব্র সংকট এবং খুচরা বাজারে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়া সরকার বর্তমানে জরুরি মজুদ ব্যবহার এবং বিকল্প উপায়ে জ্বালানি আমদানির বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। আপাতত শোধনাগারটি পুনরায় সচল করতে কতদিন সময় লাগতে পারে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: