অনুমতি ছাড়া হজের চেষ্টা করলে গুনতে হবে মোটা অংকের জরিমানা

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৪:০৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৬, ২০২৬

অনুমতি ছাড়া হজ পালনের অপচেষ্টা রোধে এবার নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে সৌদি

আরব কর্তৃপক্ষ। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিশেষ নির্দেশনায় জানিয়েছে, আসন্ন

হজ মৌসুম উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখতে বৈধ হজ পারমিট

ছাড়া কাউকে পবিত্র মক্কায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে

জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই বিশেষ কড়াকড়ি কার্যকর থাকবে। যারা এই নিয়ম অমান্য করবেন

কিংবা অবৈধভাবে কাউকে হজে সহায়তা করবেন, তাদের উভয় পক্ষকেই মোটা অংকের আর্থিক দণ্ড

ও আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি যথাযথ অনুমোদন বা পারমিট ছাড়াই হজের

আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ২০ হাজার সৌদি রিয়াল

জরিমানার মুখে পড়তে হবে। একই সাথে যারা ভিজিট ভিসা নিয়ে নিষিদ্ধ সময়ে মক্কায়

অবস্থান করবেন বা প্রবেশের চেষ্টা করবেন, তাদের ক্ষেত্রেও সমপরিমাণ অর্থদণ্ডের

বিধান রাখা হয়েছে। মূলত হজের পবিত্রতা রক্ষা এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতেই সৌদি সরকার চলতি

বছর এমন কঠোর বিধিমালা প্রবর্তন করেছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, সবচেয়ে বড় অংকের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে তাদের, যারা

ব্যক্তিগত মুনাফার উদ্দেশ্যে কিংবা অন্য কোনো কারণে অবৈধভাবে হজ পালনে কাউকে

প্ররোচনা দেবেন বা যাতায়াত ও আবাসন সুবিধা প্রদান করবেন। এক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ

১ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি ভিজিট

ভিসাধারীদের পরিবহন সুবিধা দেয় কিংবা তাদের হোটেল বা ব্যক্তিগত বাসস্থানে থাকার

ব্যবস্থা করে দেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধের গুরুত্ব

এবং জড়িত ব্যক্তির সংখ্যা অনুযায়ী এই জরিমানার অংক আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা

রয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপের বিষয়টিও এবার অত্যন্ত কঠোর করা হয়েছে।

অবৈধভাবে মক্কায় প্রবেশকারী বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থানকারী প্রবাসীদের

সরাসরি নিজ দেশে ফেরত বা ডিপোর্ট করে দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি তাদের ওপর পরবর্তী ১০

বছরের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। এছাড়া কোনো

যানবাহন যদি অবৈধ হজযাত্রী বহনে ব্যবহৃত হয়, তবে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালত সেই

যানবাহনটি সরাসরি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিতে পারেন।

সৌদি কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে জানিয়েছে যে, হজের শৃঙ্খলা এবং

হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কোনোভাবেই এই পবিত্র

ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় নিয়মবহির্ভূত প্রবেশ বরদাশত করা হবে না। তাই দেশি-বিদেশি সকল

পর্যটক ও পুণ্যার্থীদের প্রতি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এবং বৈধ অনুমতির মাধ্যমেই হজের

আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে হজের

সময় মক্কার জননিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত হবে বলে আশা করছে দেশটির সরকার।