ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন নাকচ, ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানকে খেলতেই হবে মার্কিন ভূমিতে Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৪০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০২৬ আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি চলাকালীন মাঠের খেলার বাইরে একটি বড়ো রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিতর্ক উঠেছে কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান সংঘর্ষের কারণে তৈরির হয় নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ। এই পরিস্থিতিতে ছড়িয়ে পড়া জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই ফিফা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ইরানকে তাদের সমস্ত ম্যাচই খেলতে হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে। ইরানের ভেন্যু পরিবর্তনের দাবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি, এই ঘোষণাই মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির জন্য বড়ো একটি ধাক্কা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ফুটবল সংস্থা রাজনৈতিক অস্থিরতা ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ভয় দেখিয়ে তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বদলে প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকোতে সরানোর জন্য ফিফার কাছে আবেদন করেছিল। যদিও মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাম সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে, ফিফা এই আবেদন গ্রহণ করেনি। একে দুর্বোধ্য ও অপ্রাপ্তবয়স্ক সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেছেন তাঁরা। ফিফার মতে, এখনকার পর্যায়ে লজিস্টিক বা কৌশলগত কারণেই ভেন্যু বদল সম্ভব নয়। ফলে, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ইরানের ম্যাচগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে চলমান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিতর্কিত পোস্টে এও বলেছেন যে, পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ইরানি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা দেখিয়ে তাদের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া উচিত নয়। এর উত্তরে ইরানের ফুটবল সংস্থার সভাপতিমেহেদী তাজ কঠোর অবস্থান নেন এবং বলেন, যারা জানমাল নিয়ে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাবে না, তাদের খেলতে দেওয়া হবে না। এমনকি ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রীও জানিয়ে দেন, তারা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন। অবশেষে, পরিস্থিতি সামাল দিতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নিজে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি ৩১ মার্চ তুরস্কে ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করে বলেন যে, ফুটবল সর্বদা রাজনীতির ঊর্ধ্বে। তিনি নিশ্চিত করেন যে, অংশগ্রহণকারী সকল দেশের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা নিরাপত্তা ফিফা ও আয়োজক দেশের এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এই আশ্বাসের পর, ইরানের মূলত এখন বাধ্য হয়ে নিশ্চিত সূচি অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খেলার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরান ‘জি’ গ্রুপে রয়েছে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষেরা হলো জোড়া শক্তিশালী দল বেলজিয়াম, মিশর এবং নিউজিল্যান্ড। সকল ম্যাচ মাঠে বসে হবে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে। রাজনৈতিক সংকট ও যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রীড়াঙ্গনে প্রভাব ফেললেও, এই বিতর্কের সমাপ্তি কোথায় হবে, তা এখনই জানা যায়নি। অনেক ক্রীড়া বিশ্লেষক মনে করছেন, ফিফার এই কঠোর অবস্থান কিছুটা স্বার্থ সংরক্ষণস্বরূপ হলেও, মাঠের খেলায় এর প্রভাব কতটা পড়বে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। একারণে, আপাতত ইরানের জন্য এই বিশ্বকাপের মিশন শুধু মার্কিন মাটিতে পৌঁছানোই একমাত্র গন্তব্য বলে মনে করা হচ্ছে। SHARES খেলাধুলা বিষয়: