আইএমএফের সঙ্গে ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের আলোচনা মার্চে ঢাকায় বৈঠক

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ১:৫৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে বাংলাদেশের ঋণের পরবর্তী কিস্তি সম্পর্কিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী মার্চে। এর জন্য একটি উচ্চপদস্থ আইএমএফ প্রতিনিধিদল তিন দিনের জন্য ঢাকায় আসবে, যেখানে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই আলোচনা মূলত চলমান ঋণ কার্যক্রম চালু রাখার পাশাপাশি ১৩০ কোটি ডলার ঋণ ছাড়ের বিষয়েও অগ্রগতি লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিতে উদ্যোগী।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রের তথ্যানুযায়ী, এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে থাকবেন আইএমএফের এশিয়া-প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন। উল্লেখ্য, ডিসেম্বরের শেষের দিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কিছু কিস্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন সংস্থাটি। তখন তারা জানায়, নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ভবিষ্যতে ঋণ অর্থ ছাড় অনুমতি দেয়া হবে।

আশা করা হচ্ছে, যদি আলোচনা সফল হয় এবং বিএনপি সরকারের শর্তাবলী বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, তবে আগামী জুনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের জন্য ঋণের পরবর্তী কিস্তির অর্থ পাওয়া যেতে পারে। এরই পাশাপাশি ডিসেম্বরের স্থগিত হওয়া কিস্তি ও নির্ধারিত পরবর্তী কিস্তি এক সঙ্গে ছাড়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো মীমাংসার অপেক্ষায় রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পুনর্গঠন, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন শক্তিশালীকরণ এবং সম্পূর্ণ বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু। পাশাপাশি ভর্তুকি কমানো এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্প্রসারণ আইএমএফের মূল Shর্তের মধ্যে পড়ে। নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বেশ কিছু সংস্কার উদ্যোগের প্রতিশ্রুতি থাকায়, সেগুলোর সঙ্গে আইএমএফের কর্মসূচিগুলোর সমন্বয় কেমন হবে, সেটাও আলোচনায় আসতে পারে।

করোনা মহামারি ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধজনিত বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে বাংলাদেশ ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফের সঙ্গে ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি করে। এই কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে রাজস্ব খাতের সংস্কার, ব্যাংক খাতের পুনর্গঠন ও ভর্তুকি হ্রাসের পরিকল্পনা। পরে, জুনে এই ঋণের মেয়াদ ছয় মাস বৃদ্ধি করে অতিরিক্ত ৮০ কোটি ডলার যোগ করা হয়, ফলে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলার।

বর্তমানে অনুমোদিত ঋণের সহযোগিতা এখনো চালু রয়েছে, যার মধ্যে সর্বশেষ ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার, ডিসেম্বরে ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার, ২০২৪ সালের জুনে ১১৫ কোটি ডলার এবং ২০২৫ সালের জুনে ১৩৩ কোটি ডলার প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, এখনও প্রায় ১.৮৬ বিলিয়ন ডলার ঋণের বাকি রয়ে গেছে যা পরবর্তী সময়ে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।