ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৪:০৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও

বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। তেহরানের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির

প্রেক্ষাপটে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। ট্রাম্প তার

বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, ইরান সরকার বর্তমানে অভ্যন্তরীণভাবে মারাত্মক সংকটের

মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের শাসনব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে, যা তার

কাছে আগে থেকেই প্রত্যাশিত ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার পেছনে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের বড় ধরনের মধ্যস্থতা

রয়েছে বলে জানা গেছে। ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ব্যক্তিগতভাবে এই হামলা

স্থগিত রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। তাদের এই আবেদনের

মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানি প্রতিনিধি দল ও নেতাদের একটি ঐক্যবদ্ধ এবং গঠনমূলক শান্তি

প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার টেবিলে আসার সুযোগ করে দেওয়া।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ এখনই শিথিল

হচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত

নৌ-অবরোধ আগের মতোই কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে। তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ

দিয়েছেন যেন তারা সব দিক থেকে যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং সক্ষম থাকে।

অবরোধের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ বজায় রেখে একটি কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছানোই এখন

ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য।

ইরানের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব জমা দেওয়া এবং সেই আলোচনার ফলাফল

চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানো পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি বলবৎ থাকবে। ট্রাম্প

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় পরিষ্কার করেছেন যে, আলোচনার টেবিলে একটি

অর্থবহ সমাধান না আসা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কোনো সামরিক ছাড় দিতে রাজি নয়। মূলত

পাকিস্তানের অনুরোধ এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার স্বার্থেই এই বাড়তি সময় দেওয়া হচ্ছে

বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আন্তর্জাতিক মহল ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।

যুদ্ধের মাঝপথে এই বিরতি মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা কিছুটা কমানোর সম্ভাবনা তৈরি

করলেও বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখা ইরানের অর্থনীতিকে আরও বিপাকে ফেলতে পারে।

এখন দেখার বিষয়, তেহরান মার্কিন শর্ত মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো নতুন

প্রস্তাব উপস্থাপন করে কি না এবং পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতা শেষ পর্যন্ত সংঘাত

নিরসনে কতটুকু সফল হয়।