প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে অগ্রযাত্রায় দৃঢ় অঙ্গীকার

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি ধরে রাখতে এবং দেশের উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। সরকার গত দুই মাসে অনেক উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ ও প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন অঙ্গনকে শক্তিশালী করছে। এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এসব উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, এই ইতিবাচক ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও ব্যক্তি-উপদেষ্টা তথ্যভিত্তিক মন্তব্য উপস্থাপন করে অপপ্রচার ও গুজব প্রতিরোধের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রীর যোগ্যনেতৃত্বে দেশের অগ্রযাত্রায় কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না। তবে কিছু বিরোধী দল সংসদে হট্টগোল, রাজপথে আন্দোলনের হুমকি এবং গুজব ছড়িয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। এই প্রত্যাখ্যান আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যক্ত করছি। দেশের অগ্রগতির লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যেগুলোর উল্লেখযোগ্য কিছু হলো: প্রথমত, নারীর ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পরিবারের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শেষ হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ৩৭,৫৬৭ পরিবারের কাছে এই কার্ড পৌঁছে গেছে। দ্বিতীয়ত, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করে বিভিন্ন সুবিধা ও নগদ অর্থায়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে। তৃতীয়ত, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ১০,০০০ টাকার ঋণ সুদ সহ মওকুফ করা হয়েছে। চতুর্থত, সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপে সংসদে ১৩৩টি অধ্যাদেশ দিয়ে ১২ লাখের বেশি আইন বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পঞ্চমত, সারাদেশে ২০,০০০ কিলোমিটার নদী এবং জলাশয় খনন ও পুনঃখননের কার্যক্রম চালু হয়েছে, যা ইতোমধ্যে ৫৪ জেলায় শুরু হয়েছে। ষষ্ঠত, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে দেশের জ্বালানি মূল্য অপরিবর্তিত রেখে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সপ্তমত, দেশের উচ্চক্ষমতাসম্পन्न নিস্ক্রিয় হলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি—বিশেষ করে সৌরশক্তি—উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ চলমান। আটম, ‘ফুয়েল কার্ড’ চালু করে প্রাথমিক জ্বালানি ব্যবস্থা আধুনিকীকরণে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নবম, পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান রক্ষা করা হচ্ছে। ঈদে অসহায় ও দরিদ্র মানুষদের জন্য ত্রাণ ও উপহার বিতরণ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। দশম, প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলোর পাশাপাশি হজযাত্রার খরচ কমানো, সরকারি শূন্য পদ পূরণ, সরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠান চালু ও বন্ধ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং মানবাধিকার সংরক্ষণের মতো বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এই পদক্ষেপগুলো দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে নিশ্চিত করে দেশকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। দেশের গণ্ডির বাইরে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার অপতৎপরতা থেকে মুক্তি পেয়ে নতুন করে খুলছে। মানবসম্পদ রপ্তানি, শিক্ষাগত উন্নয়ন, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার পরিকল্পনা ও প্রকল্প গ্রহণ করছে। দেশের ভিতর সম্প্রতি চলমান বিভিন্ন ফ্রন্টে অব্যাহত অগ্রগতি, দুর্যোগ মোকাবিলা, পরিবেশ রক্ষা ও মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ, সব কিছু মিলে দেশের উন্নয়নের ধারাকে আরও সুসংহত করছে। এই সব উদ্যোগ ও পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিশ্চিত করতে চান, বাংলাদেশের মানুষ ব্যক্তিগত, সামাজিক, অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা আরও শক্তিশালী হবে। নিরবচ্ছিন্ন এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।