ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণা: ১০৭ বছর পুরোনো গাবতলী মাঠ দখলমুক্ত করা হবে

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরে মাজার রোড সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী গাবতলী খেলার মাঠের অবৈধ দখল এবার তুলে নেওয়া হবে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এই ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি রোববার (১৯ এপ্রিল) এই ১০৭ বছরের পুরোনো মাঠটি পরিদর্শন করে দখলমুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

মাঠ পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, এই মাঠে কাজী সালাউদ্দীন থেকে শুরু করে আমি নিজেও ফুটবল খেলেছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশ অনুযায়ী, দেশের গ্রামীণ এলাকাসহ ঢাকা মহানগরীর যেখানে যেখানে খেলাধুলার মাঠ দখলদারদের কবলে পড়েছে, সেগুলো উদ্ধার করতে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রতিটি মাঠকে খেলার উপযোগী করে গড়ে তোলা।

গাবতলী মাঠের আইনি জটিলতা নিয়ে তিনি বলেন, এখানে আদালতের একটি রায় রয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তকে সম্মান দিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় মাঠের অবৈধ দখলদারদের দখলমুক্ত করা হবে। কোনওভাবেই অবৈধ স্থাপনা রেখে দেওয়া হবে না। এই মাঠ এলাকাবাসী ও স্কুলের ছাত্র–ছাত্রীদের খেলার জন্য খোলা থাকবে।

এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা সরেজমিনে দেখেছি, মাঠের অর্ধেকের বেশি অংশে অবৈধ স্থাপনা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বসতি থাকছে। আইনি ও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, যত অবৈধ দখলদার আছে সব সরিয়ে নেওয়া হবে। স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। সময় মত দখল না ছাড়লে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানানো হয়। এই মাঠ শুধু খেলাধুলার জন্য নয়, সামাজিক অনুষ্ঠানে ও সমাবেশের জন্যও খোলা থাকবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই মাঠটি প্রায় ১০৭ বছর আগে মরহুম মুন্সি লাল মিয়া মিরপুর সিদ্ধান্ত হাই স্কুলের নামে ওয়াক্ফ করেন। এটি ঢাকা-১৪ আসনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের একমাত্র খেলার মাঠ।

অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক মদদে মাঠের তত্ত্বাবধায়ক বাবলা নামের একজন ব্যক্তি করোনাকালীন সময়ে রাতের আঁধারে মাঠের কিছু অংশ দখল করে অবৈধ ভবন ও দোকান নির্মাণ করেন, যা বর্তমানে তাকানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে এবার দখলমুক্ত করে মাঠটি পুনরায় জনসাধারণের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।