ব্যাংক রেজল্যুশন আইন লুটেরাদের পুনর্বাসনের সুযোগ সৃষ্টি করছে: টিআইবি Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৩৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ব্যাংক খাতে দুর্বল ও একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর পুরোনো শেয়ারধারীদের পুনরায় মালিকানায় ফেরার সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রণীত ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬’ ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, এই আইনের মাধ্যমে চিহ্নিত লুটেরাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা না করে বরং তাদের পুনর্বাসনের পথ সুগম করা হয়েছে, যা ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি ও লুটের অপচেষ্টাকে আরও উৎসাহিত করতে পারে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা যোগ করা হয়েছে, যা ব্যাংক বিপর্যয়ের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে দায়মুক্তির সুবিধা সৃষ্টি করছে। এর ফলে, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার না করে বরং দুষ্টচক্রকে শাস্তির ঝুঁকির বাইরে রাখতে চাচ্ছে বলেও তিনি মনে করেন। তাঁর ভাষায়, এর আগে জারি করা ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ–২০২৫’-এ দায়ীদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা থাকলেও মালিকানায় ফেরার সুযোগ ছিল না। কিন্তু নতুন এই আইনে সেটি সংশোধন করে সেই বাধা দূর করা হয়েছে, যা দুর্বলতা দেখাচ্ছে সুশাসনের ক্ষেত্রে। ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত হতাশাজনক, কারণ এটি ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং জবাবদিহিতার ঘাটতি দূর করার পরিবর্তে পুরোনো সমস্যাগুলোর আরও জটিল রূপ দিতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এতে মূলত দায়ীদের শাস্তি না দিয়ে তাদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। সংগঠনের অভিমত, ব্যাংকিং খাতে টেকসই পরিবর্তন আনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, মালিকানা পুনর্বহালের মতো পদক্ষেপ ব্যাংক খাতের সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। টিআইবি সরকারের এই সিদ্ধান্ত আবার পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার নামে এই ধরনের আইন সৃষ্টি করা সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর স্বার্থে রূপ নিতে পারে। SHARES অর্থনীতি বিষয়: