রুহুল কবির রিজভীর মন্তব্য: কনকচাঁপার সঙ্গে অসদাচরণকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৩৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তবে দল তাকে মনোনীত না করায় তিনি কিছুটা হতাশ ছিলেন। গত শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন जमा করতে গেলে সেখানে কিছু নারী নেতা তার বিরুদ্ধেই অপ্রত্যাশিত স্লোগান দেন, নানান অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ ঘটনার কারণে কনকচাঁপা মনোনয়ন জমা দিতে পারেননি বলে জানা যায়। পরে তার সহকর্মীদের সহযোগিতায় তিনি বিলম্ব না করে মনোনয়ন ফরম জমা দিতে সক্ষম হন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই ঘটনা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, যারা এই অপ্রত্যাশিত আচরণ ঘটিয়েছে এবং এতে লিপ্ত থাকুক, তাদের আচরণে সাংস্কৃতিক অজ্ঞতা প্রকাশ পায়। এ ধরনের আচরণ খুবই ত্রুটিপূর্ণ। রিজভী আরো মন্তব্য করেন, পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে সোশ্যাল বা সাংস্কৃতিক মানদণ্ডের মধ্যে এই ধরনের ঘটনা ঘটলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি বলেন, একজন বড় শিল্পী বা সেলিব্রেটির যদি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া কিংবা আন্দোলনে সমর্থন দেওয়া প্রয়োজন হয়, তাহলে সেটাও এক ধরনের ভূমিকা। তিনি ব্যাখ্যা দেন, একজন অভিনেতা-গায়ক দলের জন্য কাজ করতে পারেন, রাস্তায় নেমে রিকশার পাম্প ছেড়ে দেওয়া দরকার নেই। তবে সবসময় তার সমর্থন প্রকাশ করা ও দলে অংশ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। রিজভী বলেন, যারা এধরনের বাজে আচরণ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরদিকে, কনকচাঁপা নিজের ফেসবুক পোস্টে নিজের প্রতি ঘটে যাওয়া অন্যায় ও অবিচার নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি এই সব সিদ্ধান্তের পেছনে আল্লাহর সাহায্য আছে। আমার করা দেশে বা দলীয় সিদ্ধান্তে আমি পূর্ণ আস্থা রাখি। তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু ২০১৩ সালে। তখন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাকে উৎসাহ দেন সরাসরি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে। অনেক প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন পান। তখন থেকেই তার জীবন কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে—নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছেন, কারও কারও জেলে যেতে হয়েছে। নিজেকে মানসিক ও অার্থনৈতিকভাবে নিঃস্বও করে ফেলেছেন। একটি শিল্পীর জন্য গান না গাওয়া মানে কতটা কষ্ট, জানেন তিনি। নিজেকে সুস্থ রাখতে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন, ছবি আঁকা ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো তার বড় এ চেষ্টার অংশ। তিনি আরও বলেন, অনেক ত্যাগ স্বীকার করে হলেও তার ক্যারিয়ার হারানোর বিষয়টি পুরোপুরি স্বীকৃতি পাননি। নির্বাচনের সময় তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন বলে উল্লেখ করেন। সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতিতে তিনি জানান, তৎকালীন নেতা তারেক রহমানের সম্মতিতে তিনি কাজ শুরু করেন। দলের অভ্যন্তরীণ বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে তিনি কাজ করে গেছেন, কিন্তু তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এতে তার কষ্ট হয়, তবে তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত। তিনি বলেন, এই ঘটনা নিয়ে যারা মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তারাও জানেন না তিনি কত কঠিন সংগ্রাম করছেন। অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে তিনি মনে করেন, দলের অধিকার আছে প্রত্যেকে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী মনোনয়ন চাওয়ার। দলের নীতিনির্ধারকরাও প্রয়োজন মনে করলে সঠিক ব্যক্তি মনোনীত করবেন। সুতরাং, কারো জন্যই মনোনয়ন ফর্ম কেনার দরজা বন্ধ নেই। শেষে, তিনি বলেন, সকল অন্যায়ের জন্য তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং এই বিষয়টি তার আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের ওপর ছেড়েছেন। তবে, এই ঘটনা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হলে দুঃখ প্রকাশের বিষয় বলে মনে করেন। SHARES রাজনীতি বিষয়: