গাছে আম-জাম যখন ধরবে পাঠাবেন, আমি খাবো

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৮:০৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০২৬

নতুন বাংলা বছর ১৪৩৩-এর প্রথম দিনে কৃষকদের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেওয়ার

কার্যক্রম শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে সদর

উপজেলায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।

কৃষক কার্ড ও গাছের চারা বিতরণের সময় উপস্থিত কৃষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তার

স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলেন, ‘উনাদের গাছের চারা দিচ্ছি। কয়েকজনকে জামগাছ দিয়েছি,

আমগাছ দিয়েছি। আমি উনাদের বলেছি, এটি বাসার সামনে রোপণ করতে হবে। যারা আম ও জামগাছ

পেয়েছেন, আমি তাদের বলেছি, আম, জাম যখন ধরবে আমি খাবো, আমাকে পাঠাবেন।’

তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং চার কোটি পরিবারের

কোনো না কোনো সদস্য এই খাতের সঙ্গে জড়িত। ‘আমাদের পরিবারের কেউ না কেউ কৃষির সঙ্গে

জড়িত। দেশের চার কোটি পরিবারের কেউ না কেউ কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত। এ দেশের প্রধান

পেশাই হলো কৃষি। ২২ হাজার কৃষককে আমরা প্রথম পর্যায়ে কৃষক কার্ডের সুবিধা পৌঁছে

দিতে চাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির মধ্যে ‘কৃষক কার্ড’

অন্যতম ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, যেসব কৃষকের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা

কৃষিঋণ ছিল, তা প্রথম সপ্তাহেই মওকুফ করা হয়েছে এবং এতে প্রায় ১২ লাখ কৃষক উপকৃত

হয়েছেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে ২২ হাজার কৃষকের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হলেও আগামী পাঁচ

বছরে পর্যায়ক্রমে সরাসরি কৃষির সঙ্গে যুক্ত ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের কাছে ‘কৃষক কার্ড’

পৌঁছে দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষিনির্ভর অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া

হবে, যাতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের

সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা কোল্ডস্টোরেজ স্থাপনে আগ্রহ

দেখিয়েছেন, এ বিষয়ে সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে সবসময় কৃষকদের সহায়তায় কাজ করেছে এবং

ভবিষ্যতেও তাদের আস্থার মূল্যায়ন করা হবে।

অনুষ্ঠানে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে

বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। স্বাগত বক্তব্য দেন কৃষি সচিব রফিকুল-ই

মোহামেদ।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে ১৫ জন কৃষকের মধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করেন এবং

তাদের মাঝে গাছের চারা তুলে দেন।