নিজের সাত সন্তানসহ ৮ শিশুকে গুলি করে হত্যা করলেন পাষণ্ড বাবা Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৪:০৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের শ্রেভপোর্টে এক পৈশাচিক ও মর্মান্তিক বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এক বাবা তাঁর নিজের সাত সন্তানসহ মোট আট শিশুকে গুলি করে হত্যা করেছেন। স্থানীয় সময় রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে তিনটি আলাদা বাড়িতে হানা দিয়ে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড চালান ঘাতক পিতা। ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটি যুক্তরাষ্ট্রে ঘটা সবচেয়ে বড় এবং ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এই অভাবনীয় নৃশংসতায় পুরো এলাকা জুড়ে গভীর শোক ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিহত শিশুদের মধ্যে তিন জন ছেলে এবং পাঁচ জন মেয়ে ছিল, যাদের বয়স মাত্র ৩ থেকে ১১ বছরের মধ্যে। পুলিশি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিহতদের মধ্যে সাত জনই ঘাতকের আপন সন্তান এবং অপর এক শিশু তাঁর নিকটাত্মীয় ছিল। নিহত শিশুরা হলো— জায়লা এলকিন্স (৩), শায়লা এলকিন্স (৫), কায়লা পিউ (৬), লায়লা পিউ (৭), মারকেডন পিউ (১০), সারিয়া স্নো (১১), খেডারিওন স্নো (৬) এবং ব্রেলন স্নো (৫)। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে কোমলমতি এই শিশুদের জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা কর্পোরাল ক্রিস বোর্ডেলোন জানিয়েছেন, ৩১ বছর বয়সী এই ঘাতক বাবার নাম শামার এলকিন্স। তিনি প্রথমে নিজের স্ত্রীকে লক্ষ্য করে গুলি চালান, যাতে তাঁর স্ত্রী গুরুতর আহত হন। স্ত্রীকে গুলি করার পর তিনি ক্ষান্ত হননি; বরং উন্মাদের মতো আরও দুটি বাড়িতে গিয়ে একে একে নিজের সন্তানদের ওপর গুলিবর্ষণ করেন। এ সময় তাঁর গুলিতে শিশুদের মা এবং ঘাতকের এক নারী আত্মীয়ও গুরুতর জখম হন। বর্তমানে ওই শিশুদের মা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। তবে চরম এই বিপদের মুখে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর প্রাণে বেঁচে গেছে। ঘাতকের হাত থেকে বাঁচতে সে ছাদ থেকে লাফ দিলে শরীরের বেশ কয়েকটি হাড় ভেঙে যায়, তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন সে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে। শামার এলকিন্সের অতীত ইতিহাস বিশ্লেষণ করে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি এর আগেও সহিংস অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং ২০১৯ সালে একটি স্কুলের সামনে জনৈক ব্যক্তির গাড়িতে পাঁচটি গুলি চালানোর অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এ ছাড়া, শামার এলকিন্স টানা সাত বছর লুইজিয়ানা আর্মি ন্যাশনাল গার্ডে কর্মরত ছিলেন এবং ২০২০ সালের আগস্টে তিনি সেখান থেকে বিদায় নেন। তবে সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দীর্ঘ কর্মজীবনে তাঁকে কোনো সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সম্মুখ যুদ্ধে মোতায়েন করা হয়নি। এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার এক পর্যায়ে শামার এলকিন্সকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই গণ-হত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিবিড় তদন্ত শুরু করেছে। দেশটির অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান বন্দুক সহিংসতা এবং পারিবারিক কোন্দলের এমন চরম বহিঃপ্রকাশ নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে পুনরায় তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ মানুষ এই পৈশাচিক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছেন। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: