লিবিয়া উপকূলে বাংলাদেশিসহ ১৭ অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৪১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২৬

উন্নত জীবন ও স্বপ্নের আশায় ইউরোপে পাড়ি জমানোর ছোট-বড় অনেকের আগ্রহ এলোমেলো করে দেয় মরণদশা। এই মরুর দেশে, যেখানে জীবনযুদ্ধের বাস্তবতা কঠোর, লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১১৭ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত জুয়ারা উপকূলে গত কয়েক দিন ধরে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ১৭ জন অভিবাসীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে।

বিশেষ করে বিপজ্জনক পথে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টায় অনেকের জীবন আজ ঝরে গেছে। জানা গেছে, এই ১৭ জনের মধ্যে একজন বাংলাদেশির মরদেহ রয়েছে, যা নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় চিকিৎসকেরা। শনাক্তের পর তার পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ১৬ জনের মধ্যে ১৪ জনের মরদেহ ধর্মীয় ও আইনি নিয়ম মেনে দাফন করা হয়েছে। তবে, এখনও দুইজনের পরিচয় জানা যায়নি। তাদের পরিচয় শনাক্তে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

এই উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে লিবিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সাথে সংশ্লিষ্ট ইমার্জেন্সি মেডিসিন ও সাপোর্ট সেন্টার। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ছবিতে দেখা যায়, চিকিৎসক ও স্বাস্থকর্মীরা সতর্কতার সাথে সাদা প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়ানো মৃতদেহগুলো অ্যাম্বুলেন্সে তুলছেন। ইউরোপের স্বপ্ন দেখিয়ে বাড়ি-ঘর ছেড়ে বের হওয়া এই মানুষগুলো আজ হয়ে উঠেছেন পরিণত লাশ।

১৯৯০ সালের পর থেকে লিবিয়া অবৈধভাবে ইউরোপ প্রবেশের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে পরিচিত। যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব থেকে মুক্তির জন্য এই পথ বেছে নিচ্ছেন হাজারো মানুষ। দালালদের প্রলোভনে পড়ে নানা রকম ঝুঁকিপূর্ণ পথের মধ্যে দিয়ে নিবিড়ভাবে মারাত্মক পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন যাত্রীরা। উত্তাল ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার জন্য প্লাস্টিক বা রাবার নৌকা ব্যবহার করে অথবা সাহারা মরুভূমি পেরোতে গিয়ে শুরু হয় জীবন-মৃত্যুর খেলা, যেখানে অনেকের জীবন হারানো অবধারিত হয়ে পড়ে।

উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত ১৭ জনের মধ্যে ১৪ জনের মরদেহ ইতিমধ্যেই যথাযথ ধর্মীয় ও আইনি প্রক্রিয়ায় দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। এখনও দুইজনের পরিচয় জানা যায়নি, তাদের শনাক্ত করার জন্য তদন্ত চালানো হচ্ছে।