কনকচাঁপার সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রুহুল কবির রিজভী

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী জনপ্রিয় গায়ক ও সুরকার রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। পরে দল তাকে মনোনীত না করায় তিনি বেশ কিছু দলীয় আর সাংগঠনিক ধাক্কা মোকাবেলা করেন। গতকাল শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়ে কিছু নারী নেতা-নেত্রী কনকচাঁপাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হট্টগোলের মধ্যে ফেলেন ও অপ্রাসঙ্গিক স্লোগান দেন। এর ফলে তিনি অন্য সহকর্মীদের সহযোগিতা নিয়ে সংবাদপত্রের সামনে মনোনয়ন জমা দিতে সক্ষম হন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এই ধরনের আচরণে সাংস্কৃতিক ঘাটতি পাওয়া যায়। তিনি বলেন, এমন অপ্রত্যাশিত ও অপ্রাসঙ্গিক আচরণ খুবই দুঃখজনক এবং যখন একজন জনপ্রিয় শিল্পী দলের জন্য কাজ করতে চান, তখন তার সঙ্গে এই ধরনের আচরণ কীভাবে হয় তা মনে গাঁথা। তিনি প্রশ্ন করেন, পৃথিবীর অন্য কোথাও কি এ ধরনের ঘটনা হয়?

রিজভী আরও বলেন, সবারই তো মাঠে সক্রিয় ভূমিকা থাকা দরকার। একজন বড় শিল্পীর যদি বিএনপির আন্দোলন ও সংগ্রামে অবদান থাকার সুযোগ থাকে, তবে এটি একটি বড় ইতিবাচক দিক। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, সাবেক এমপি এমাজ উদ্দিন স্যার রাস্তায় মিছিল করতে বা রণাঙ্গণে থাকা না সত্ত্বেও বিএনপিকে সমর্থন করেছেন। তাই একজন খ্যাতনামা কণ্ঠশিল্পীর মত একজন ব্যক্তির সমর্থনের গুরুত্বও অনেক। তাহলে এই শিল্পীর সঙ্গে এমন অশোভন আচরণ কেন? তাকে হয়রানি বা অবমূল্যায়নের এই সুযোগ নেই।

রিজভী উল্লেখ করেন, যারা এই ধরণের বাজে আচরণ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতীতে এক ফেসবুক পোস্টে নিজের প্রতি অমুকের অন্যায় ও অপমানের বিচার আল্লাহর উপর ছেড়ে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে কনকচাঁপা লিখেছেন, তিনি দলের প্রতি একান্ত আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ২০১৩ সালে বেগম খালেদা জিয়া তার নেতৃত্বে রাজনীতিতে আসার অনুপ্রেরণা দেন। তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। দীর্ঘ দিন বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হন, তার মানসিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। শিল্পী হিসেবে জীবন চালাতে পারছিলেন না। তবুও তিনি দলের জন্য কাজ করে গেছেন।

কনকচাঁপা আরও বলেন, তার রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালে, তখন দলের নেত্রী তাকে সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। এত কষ্ট আর ঝড় ঝাপটা সত্ত্বেও তিনি দলের জন্য কাজ করেছেন। নিজেকে দলের একজন নিবেদিত কর্মী মনে করে, দলের স্বার্থে সব কিছু করতে প্রস্তুত।

তাদের নির্মম পরিহাস ও আঘাতের মাঝে এই সব ত্যাগের মূল্যায়ন এখনো পাননি তিনি। তিনি বলেন, নিঃস্ব ও ক্যারিয়ার হারানো অবস্থায়ও তার সুখ-সুখের কিছুই হয়নি। এখন আবারও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য চেষ্টা করেন, কিন্তু দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি। এ নিয়ে তাকে কষ্ট হলেও তিনি সেটি মেনে নিয়েছেন। তিনি জানান, দলকে নিয়ে তার অনুমোদন শতভাগ, তবে কিছু অপপ্রচার ও অন্যায় প্রচেষ্টায় তাকে ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চলমান রয়েছে। তিনি মনে করেন, যারা নির্বাচন না চেয়েও অপপ্রচারে লিপ্ত, তারা এখনো এই ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।

সর্বশেষ তিনি বলেন, দলে যারা নমিনেশন চায়, তাদের অধিকার রয়েছে। দল নির্বাচন করার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করে সঠিক ব্যক্তিকে নির্বাচিত করে থাকে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এ ধরনের কূটচাল ও অপপ্রচার শেষ হতে হবে। শেষমেষ তিনি বলেন, এইসব অন্যায় ও ষড়যন্ত্রের জন্য তিনি আল্লাহর উপর বিশ্বাস রেখেছেন এবং আশা করেন, দলের বা দেশের ইমেজ ক্ষুণ্ণ না হয়।