ঠাকুরগাঁওয়ে পোল্ট্রি খাতের মুখে অন্ধকার, শত শত খামার বন্ধ

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৬, ২০২৬

ঠাকурগাঁওয়ের পোল্ট্রি খাতে গভীর সংকট চলছে। এক সময় জেলার মাংসের চাহিদার অন্যতম বড় যোগানদার ছিলো শত শত ছোট ও মাঝারি খামার, কিন্তু এখন এসব খামার বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে খামারি এবং শ্রমিকরা মহাবিপদে পড়েছেন।

জেলা পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের দাবি, প্রায় নয় শত প্রান্তিক খামারি এই খাতে আশানুরূপ সম্ভাবনা দেখতেন। কেউ এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে, কেউ জমি বিক্রি করে, আবার কেউ ধার-দেনা করে গড়ে তুলেছিলেন এসব মুরগির খামার। প্রান্তিক এই খামারিরা জানান, তারা প্রায় ৮০ শতাংশ মাংসের চাহিদা পূরণ করত। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে এখন তাকেই স্থবিরতা গ্রাস করেছে।

জেলার অর্ধেকের বেশি খামার ইতিমধ্যে বন্ধ হয়েছে। লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেডগুলো পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। খামারিরা বলছেন, ঘনীভূত লোকসানের কারণে অনেকেই ঋণ শোধ করতে পারছেন না, ফলে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

নজরুল ইসলাম নামে একজন ক্ষতিগ্রস্ত খামারি বলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া, বাজারের অস্থিরতা এবং বড় কোম্পানির সিন্ডিকেটের কারণে মুরগির বাচ্চা ও ফিডের দাম অ vreemde বেড়ে গেছে, যা তাঁদের জন্য অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে এখনও চালু থাকা খামারগুলোও টিকে থাকার জন্য কঠিন সংগ্রামে লিপ্ত। খামারিরা ও শ্রমিকের মধ্যে উদ্বেগ আর শঙ্কা বেড়ে চলেছে।

সুজন ইসলাম নামে একজন ক্ষুদ্র খামারি বলেন, আমাদের গ্রামে এক সময় ২৫ জনের বেশি খামারি থাকলেও এখন সংখ্Dা নেমে এসেছে কেবল পাঁচ জনে। নতুন পরিকল্পনা না করলে বা ঋণের সুবিধা না পেলে এই খাতটি টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ঠাকুরগাঁও পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি আশরাফুজ্জামান বলেন, সরকারি সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ ও বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হলে এই সংকটের সমাধান সম্ভব। তবে এ জন্য দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পোল্ট্রি খাতে আরও গভীর সংকট দেখা দিতে পারে, যা সামগ্রিক মাংস সরবরাহ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করবে।

প্রাণী সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ডা. ইজহার আহমেদ খান স্বীকার করে বলেন, জেলা প্রান্তিক খামারিরা বেশ ভালো নেই। তারা নানা অসুবিধার মধ্যে রয়েছেন। তবে, তারা যেন আবারও স্বাভাবিকভাবে খামার চালু করতে পারে, সেজন্য প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর পাশে থাকবে এবং ঋণের জটিলতা দূর করতে কাজ চালাবে।