ব্যাংক রেজল্যুশন আইন লুটেরাদের পুনর্বাসনের সুবিধা করছে: টিআইবি

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০২৬

ব্যাংক খাতে দুর্বল ও একীভূত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর পুরোনো শেয়ারধারীদের পুনরায় মালিকানায় ফিরার সুযোগ রেখে প্রণীত ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি মনে করছে, এই আইনের মাধ্যমে চিহ্নিত লুটেরাদের জবাবদিহিতা না করে বরং তাদের পুনর্বাসনের পথ সুগম করা হয়েছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “নতুন এই আইনে একটি ধারা সংযোজিত করা হয়েছে, যা ব্যাংক বিপর্যয়ের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে তাদের দায়মুক্তির সুযোগ সৃষ্টি করছে।” তিনি উল্লেখ করেন, এতে ব্যাংকিং খাতে আবারও দুর্নীতি ও লুটপাটের ঝুঁকি বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, এর আগে জারি করা ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ–২০২৫’-এ দায়ীরা অর্থ ফেরত দিলে মালিকানা পুনরুদ্ধারের সুযোগ ছিল না। কিন্তু বর্তমানে সংশোধনী আনার মাধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা তুলে দেওয়া হয়েছে, যা সুশাসনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ড. ইফতেখারুজ্জামান মন্তব্য করেন, সরকার এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, এটি ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি দূর করার পরিবর্তে পুরোনো সমস্যা আরও আমলে নেবে। তাঁর ভাষায়, “এতে দায়ীদের শাস্তি নয় বরং পুরস্কৃত করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জোর দিয়ে বলনে চেন, ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা রক্ষা করতে দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই একমাত্র সমাধান। অন্যথায়, মালিকানা পুনর্বহালের মতো পদক্ষেপ খাতটির উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং সার্বিক অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

টিআইবি সরকারের প্রতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার নামে এমন আইন প্রণয়ন সম্ভবত সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।