কনকচাঁপার সঙ্গে দুর্ব্যবহার: সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, রুহুলের প্রতিশ্রুতি Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৩৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা ছিলেন। তবে দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি। গতকাল শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে কিছু নারী নেত্রী তার ওপর অপ্রাসঙ্গিক স্লোগান ও দুর্ব্যবহার করেন। তারা কনকচাঁপাকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন ধরনের অবাঞ্ছিত কথাবার্তা বলতে শুরু করে। একপর্যায়ে সহকর্মীদের সহায়তায় তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিতে সক্ষম হন। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, এই ধরনের আচরণের পেছনে সাংস্কৃতিক অজ্ঞতা বা ঘাটতি আছে। তিনি বলেন, এমন আচরণ খুবই দৃষ্টিক IFC আর খারাপ। রিজভী বলেন, বিশ্বের অন্য কোথাও কি এমন ঘটে? সাধারণ আওয়ামী লীগ বা নেতাকর্মীদের জন্য সাংগঠনিক দায়িত্ব থাকে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একজন বড় শিল্পীর যদি বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা থাকে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, এমাজ উদ্দিন স্যার কি রাস্তায় দাঁড়িয়ে মিছিল করতেন? না, তবে উনি বিএনপিকে সমর্থন করতেন, যা দেশের মানুষ জানে। এটি অনেক কাজের বিষয়। একজন বড় কণ্ঠশিল্পী বিএনপিকে সমর্থন করলে সেটাও বড় বিষয়। মানুষ বুঝে নেয়, কেউ কি রাস্তায় নেমে রিক্সার পাম্প চালানো বাধ্যবাধকতা রয়েছে? এই ধরনের আচরণ অবশ্যই না করে, সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে রিজভী উল্লেখ করেন। সাম্প্রতিক এক ফেসবুক পোস্টে কনকচাঁপা নিজের প্রতি অন্যায় হওয়ার অভিযোগ করে বলেন, সব কিছু আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়েছেন। তবে দলপ্রতি তার আনুগত্যের কথা তিনি উল্লেখ করেন এবং বলেন, আমি ২০১৩ সাল থেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তখন আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া আমাকে সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। বিভিন্ন বাধা সত্ত্বেও আমি তার নির্দেশানুযায়ী কাজ করি। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে আমি ওই সময়কার এক বর্ষীয়ান দলের প্রার্থীকে মোকাবিলা করে মনোনয়ন পেয়েছিলাম। আমার জন্য এই যাত্রা ছিল কঠিন, বিপদসংকুল। আমার সীমিত ক্ষমতা দিয়ে চেষ্টা করে গেছি। আমি একজন রাজনৈতিক মানুষ, কিন্তু পুরোপুরি রাজনীতিবিদ নই। তিনি আরও জানান, দীর্ঘ বছর ধরে নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তার দল ও নিজেও। কেউ জেল খেটেছেন, কেউ মামলা করেছেন, আর আমি? আমি মানসিক ও অর্থনৈতিক খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। একজন শিল্পীর জন্য গান না গাওয়া কত কঠিন, বলছেন তিনি। এর পরও তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ, কিন্তু ক্যারিয়ার হারানো, নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার স্বীকৃতি কি তার পাওয়ার কথা নয়? তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচনে তারেক রহমানের অনুমতিক্রমে তিনি নিজের এলাকায় কাজ শুরু করেছিলেন। দলের ভেতরে বাধার পাশে দাঁড়িয়ে নিরলসভাবে কাজ করে গেলেও, দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি। তবুও তিনি তা মেনে নিয়েছেন। তার দলের প্রতি আস্থা ও আনুগত্য শতভাগ। কিন্তু তিনি মনে করেন, যারা তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের মাধ্যমে তার মানসম্মান ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে, তারা এখনও এই অপকৌশলে লিপ্ত। তিনি মনে করেন, দলের প্রার্থীর জন্য নমিনেশন চাওয়ার অধিকার সকলের। দলের নীতিনির্ধারকদেরও উচিত সঠিক ব্যক্তিকে বাছাই করা। ফলে, সবাই সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে নমিনেশন ফরম সংগ্রহের সুযোগ পাবে। সবশেষে, তিনি সততার সাথে বলেন, যেকোনো অন্যায় ও অপমানের বিচার আল্লাহর উপর দিয়ে করবেন, তবে দলপ্রতি তার আস্থার ব্যাপারে কোনো পরিবর্তন হবে না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হলে দুঃখ প্রকাশ করেন। SHARES রাজনীতি বিষয়: