কনকচাঁপার সঙ্গে খারাপ আচরণকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রুহুল কবির রিজভী

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ১:০৭ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী

রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। পরে দল তাকে মনোনীত করেনি। গতকাল, শনিবার (১১ এপ্রিল)

দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন জমা

দিতে গেলে বগুড়ার কিছু নারী নেত্রী হট্টগোলের সৃষ্টি করেন । কনকচাঁপাকে উদ্দেশ্য

করে তারা বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক স্লোগান দেন। পরে অন্য সহকর্মীদের সহযোগিতায় তিনি

মনোনয়ন জমা দিতে সক্ষম হন।

কনকচাঁপার সঙ্গে করা এমন আচরণের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির

জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, যারা এই কর্মকান্ড

ঘটিয়েছে এবং তাতে লিপ্ত হয়েছে তাদের আচরনে সাংস্কৃতিক ঘাটতি আছে। তাদের আচরন

অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ। রিজভী বলেন, সেলিব্রেটিরা আসবে না কেন? পৃথিবির অন্য কোন দেশে

দৃষ্টান্ত নেই?

সবারই কি মাঠ পর্যায়ের ভুমিকা থাকে? একজন বড় শিল্পির যদি বিএনপির আন্দোলন, সংগ্রাম

অবজেক্টিভ, এবং গনতন্ত্র ফেরানোই ভূমিকা থাকে এটাতেও অনেক কাজ হয়।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এমাজ উদ্দিন স্যার কি রাস্তায় দাঁড়িয়ে মিছিল করতেন? তা তো

করতেন না, কিন্তু উনি বিএনপিকে সমর্থন করতেন এটা দেশবাসী জানে, এটা আমাদের অনেক কাজ

হতো।

একজন বড় কন্ঠশিল্পি তিনি বিএনপিকে সমর্থন করেন, এতাই তো অনেক বড় বিষয়, সবাইকে কে কি

রাস্তায় নেমে রিক্সার পাম্প ছাড়তে হবে নাকি? এটা কি ধরনের কথা যে পার্টি অফিসে একজন

সন্মানিত শিল্পি আসবে তার সাথে এরকম ব্যাবহার করবে! তিনি আরো বলেন, যারাই এধরনের

বাজে আচরণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে নিজের প্রতি অন্যায় হয়েছে দাবি করে তার বিচার আল্লাহর

ওপর ছেড়ে দেন কনকচাঁপা। দীর্ঘ এই পোস্টে দলের প্রতি আনুগত্যের কথা তুলে ধরেন তিনি,

যা দৈনিক বাংলার পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো— কনকচাঁপা ফেসবুক পোস্টে বলেন,

আমি বিশ্বাস করি, সব ফয়সালার কারিগর আল্লাহ রহমানুর রহীম। আর যেকোনো রাজনৈতিক দলের

সিদ্ধান্ত দলের সম্মানিত নীতিনির্ধারকদের। তাদের প্রতি আমি পূর্ণ আস্থা এবং সম্মান

রাখি। আপনারা জানেন অথবা কেউ কেউ জানেন না যে আমি আজীবন মানুষের পাশে থেকেছি আমার

সাধ্যমতো।

আমার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ২০১৩ সালে। আমাদের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া

২০১৩ সালে আমাকে রাজনীতিতে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। তখন তিনি মহিলা সংরক্ষিত আসনের

বদলে সরাসরি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কথা বলেন এবং যেটা আমার জন্য খুবই কঠিন

কাজ ছিল। তবু্ও আমি তার কথা বেদবাক্য হিসেবে মেনে নিয়ে কাজ শুরু করি।

যার ফলে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে একজন বর্ষীয়ান দুঁদে রাজনীতিবিদের মুখোমুখি হয়ে

নির্বাচনের জন্য নমিনেশন পাই। বলা বাহুল্য, সেই যাত্রা সহজ ছিল না। ছিল বিপৎসংকুল

এবং আমার জন্য দুরূহ। আমি এবং আমার আল্লাহ জানেন, আমার সীমিত ক্ষমতা দিয়ে এই লড়াই

চালানোর চেষ্টা করে গেছি। আমি একজন রাজনৈতিক মনের মানুষ, কিন্তু আমি রাজনীতিবিদ নই।

যার জন্য পুরো কাজই আমার জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল এবং নেত্রীর আদেশ আমি পালন করেছি।

তারপর দীর্ঘ অনেক বছর বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি তা বর্ণনাতীত। বিগত আমলে আমরা

নেতাকর্মীরা নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছি, কেউ জেল খেটেছে, কেউ মামলা খেয়েছে। আর আমি?

আমি মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়ে গেছি। একজন শিল্পী গাইতে না পারলে তার কী

বাকি থাকে বলুন? বাংলাদেশের মাটিতে কোথাও কোনো গান গাইতে পারিনি। আমি নিজেকে সুস্থ

রাখার জন্য ফুলও লতা-পাতার ছবি আঁকা, আমার পরিবার ও রান্না নিয়ে ব্যস্ত থাকার

চেষ্টা করেছি।

আমি সবার ক্ষতিকেই ক্ষতি হিসেবে দেখি, তাদের এই ত্যাগকে মূল্যায়ন করি, কিন্তু আমার

এই যে ক্যারিয়ার হারানো, নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার কোনো স্বীকৃতি কি আমি পেতে পারি না?

এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বর্তমান

সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মতিক্রমে আমার নির্বাচনী এলাকায় কাজ শুরু

করি। বছরজুড়ে নিজের দলের ভেতরের বাধাবিপত্তি পেরিয়ে নিরলস কাজ করেছি; কিন্তু কোনো

কারণে দল আমাকে মনোনীত করেনি। তা আমি কষ্ট পেলেও মেনে নিয়েছি। সে জন্য কে কী ভাবলো

তাতে আমার কিছু আসে-যায় না। দলের প্রতি আমার আনুগত্য ১০০ পার্সেন্ট।

কিন্তু অযথা অন্যায়ভাবে মিথ্যাচার করে মানুষের কাছে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার

হীনপ্রচেষ্টা বস্তুতই দুরভিসন্ধি। আমার মনে হয়, যারা জাতীয় নির্বাচনে চায়নি যে আমি

নমিনেশন পাই, তারা এখনো এই অপচেষ্টায় লিপ্ত আছেন।

দলের যে কারো অধিকার আছে নমিনেশন চাওয়ার এবং যে কেউ নিজেকে যোগ্য মনে করারও অধিকার

রাখে। আবার দলের নীতিনির্ধারকদেরও বিধান আছে যাচাই-বাছাই করে সঠিক মানুষকে বেছে

নেওয়ার। অতএব, নমিনেশন ফরম কেনার দুয়ার সবার জন্য খোলা বলাই বাহুল্য।

যাই হোক, আমার সঙ্গে করা অনেক অন্যায়ের বিচারের ভার আমি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিলাম।

কিন্তু এর ফলে দলের যদি কোনো ইমেজ ক্ষুণ্ণ হয় তা খুবই দুঃখজনক।