২১ ঘণ্টা আলোচনার পরও সমঝোতা হয়নি: ভ্যান্স

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৪০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১২, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত মার্কিন-ইরানি আলোচনাগুলি দীর্ঘ দুই দিন ধরে চলে, তবে এতে কোন নির্দিষ্ট সমঝোতা লাভ সম্ভব হয়নি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স জানান, মোট ২১ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকের শেষে কোনও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি। রোববার (১২ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন এবং জানান যে, এখন মার্কিন প্রতিনিধিদল পাকিস্তান ত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই অজয় ব্যর্থতা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে নতুন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, যা অপ্রত্যাশিত অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে।

বৈঠকের এই দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভূমিকার জন্য ব্যাপক প্রশংসা করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাঁদের উদ্যোগ এবং পেশাদারিত্ব এই বৈঠক সফল করেছে। তবে দুঃখের বিষয়, পাকিস্তানের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার পরও মূল বিরোধের বিষয়ে কোনও সামাধান আসেনি। ভ্যান্সের মতে, পাকিস্তান তাদের দায়িত্ব পালন করেছে নিখুঁতভাবে, তবে রাজনীতির জটিলতা এবং দুই দেশের মধ্যে জমে থাকা বিভিন্ন বিতর্ক এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট এই আলোচনাকে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক উভয় হিসেবেই দেখছেন। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা চলা এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা হয়েছে এবং কিছু অগ্রগতি সাধিত হলেও, চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইমানদার ও নমনীয় মনোভাবের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিল। বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমঝোতার জন্য সবদিকে বোঝাপড়ার মানসিকতা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত এক চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি, যা একেবারেই দুঃখজনক।

তবে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, এই দীর্ঘ আলোচনাগুলো বৃথা যায়নি। মার্কিন কর্তৃপক্ষ পাকিস্তান ত্যাগের আগে ইরানের জন্য একটি ‘চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম’ প্রস্তাব রেখে যাচ্ছে। এই প্রস্তাবটি মূলত একটি সহজ ও সরল সমঝোতার পথ, যা গ্রহণ বা অগ্রহণের সিদ্ধান্ত এখন পুরোপুরি তেহরানের উপর। মার্কিন প্রশাসন এই সাম্প্রতিক অগ্রগতি নজরে রেখে দেখছে, ইরানি নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করে যুদ্ধের পথ বেছে নেয় কি না।

সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স আরও জানিয়েছেন, এই ২১ ঘণ্টার প্রতিটি ধাপ ও অগ্রগতির বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়মিত অবহিত করা হয়েছে। আলোচনা চলাকালে তিনি অন্তত ছয় থেকে বারোবার সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা নিয়েছেন। ফলে স্পষ্ট বোঝা যায়, হোয়াইট হাউস এই বৈঠকটিকে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা ও কূটনীতি সংক্রান্ত অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছিল।

সংবাদ সম্মেলনের আগের পটভূমিতে ট্রাম্পের জামাতা ও হোয়াইট হাউসের শীর্ষ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার ও মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ উপস্থিত ছিলেন, যারা এই বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে একজন। তারা সরাসরি ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এখন মার্কিন প্রতিনিধিদল পাকিস্তান ত্যাগের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে থাকলেও, দেখা হচ্ছে যে, এ থেকে তৈরি হওয়া ‘সর্বোত্তম প্রস্তাব’ কি পারমাণবিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্থায়ী শান্তি নিয়ে আসতে সক্ষম হবে। বিশ্ব এই পরিস্থিতির দেখার অপেক্ষায়, আর এর ফলে দীর্ঘদিনের সংঘাতের ঝুঁকি আবারও বাড়তে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।