আফগানিস্তানে হেরাতে পিকনিক স্পটে বন্দুক হামলা, নিহত ১১ Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৪০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১২, ২০২৬ আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় অন্তত ১১ জন শিয়া মুসলিম নিহত হয়েছেন। ঘটনার সময় স্থানীয়রা প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই পিকনিক ও বিনোদনের জন্য জনপ্রিয় একটি স্পটে উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনাটি গত শুক্রবার বিকেলে ঘটে, যখন বিনোদন কেন্দ্রের পাশে একটি পিকনিক স্পটে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা অতর্কিত গুলি চালালে হতাহতরা হন। প্রথমে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও সাতজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়, ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১ জনে। এখন পুরো এলাকা শোকার্ত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। প্রতক্ষদর্শীরা ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারের ছুটির দিনে বহু মানুষ সেই বিনোদন কেন্দ্রের কাছে ভিড় করেছিলেন। বিকেল অনুমানিক সাড়ে তিনটার সময়, মোটরসাইকেলে করে আসা একদল অজ্ঞাত সশস্ত্র দুর্বৃত্ত আকস্মিকভাবে দেহ মেহরি গ্রামের কাছাকাছি অবস্থানরত মানুষের ওপর গুলি চালাতে শুরু করে। এই গ্রামটি শিয়া মুসলিমদের জন্য পরিচিত, যেখানে একটি প্রাচীন শিয়া মাজার রয়েছে। মাজার সংলগ্ন এলাকায় পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা সাধারণ মানুষগুলোকে নির্বিচারে গুলির শিকার হতে হয়। তালেবান সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান আহমাদুল্লাহ মুত্তাকি এই হামলার জন্য এটিকে একটি পরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে অভিহিত করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিয়িকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এই হামলা দ্রুত ঘটেছে এবং আগন্তুকরা ঘটনার পর পালিয়ে যায়। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল মতিন কানি জানিয়েছেন, এই স্থানটিতে প্রতিদিন মুসল্লি ও জিয়ারত করতে আসা মানুষের ভিড় লেগে থাকে, যেখানে হামলা চালানো হয়। এধরনের হামলা মূলত ধর্মীয় বিদ্বেষের প্রকাশ, মনে করছে বিশ্লেষকরা। আফগানিস্তানে শিয়া মুসলিমরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং অতীতে তারা বিভিন্ন উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর হামলার শিকার হয়েছেন। স্থানীয় একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, নিহতরা সবাই শিয়া সম্প্রদায়ের। তাঁরা ছুটির দিন মাজারে সময় কাটাতে গিয়েছিলেন। আহতদের অনেকের অবস্থা সংকটাপন্ন থাকায় সামনে আরও মৃত্যুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী বা জঙ্গি সংগঠন হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে, তালেবান সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে অভিযান শুরু করেছে। এই হামলার প্রভাব আফগানিস্তানের সংখ্যালঘু শিয়া সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ভুক্তভোগীদের জন্য সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: