আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৩২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১২, ২০২৬ বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে নতুন আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে। আজকের দিনে আওয়ামী লীগের বেশ কিছু কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সময় জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশের ভিত্তিতে, যেগুলো এখন সংসদে বিল আকারে পাস হলো। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে এই বিল পাস হয়। এর ফলে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ক্রমশ নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষণা করা হলো। এর পূর্বে, সরকারের জরুরি অবস্থার সময়ে কেন্দ্রীয়ভাবে জারি করা নানা অধ্যাদেশ এখন সাংবিধানিক বৈধতা পেয়ে রূপ নিল। তার মধ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠন, নেতাদের বিরুদ্ধে চালানো আইনি ব্যবস্থা এবং তাঁদের বিভিন্ন সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত। বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৯ সালে জারি হওয়া ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা আইন’ এখন রহিত করা হবে। এর ফলে, সংসদীয় সময় তার অধীনে দেয়া বিশেষ নিরাপত্তা, বাসভবন এবং অন্যান্য সুবিধা বাতিল করা হচ্ছে। এই আইনের পরিবর্তে নতুন ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ’ এর পরিবর্তে এখন এই বিল আইনি রূপ পেয়েছে। এই বিলের মাধ্যমে, সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার জন্য আরও স্পষ্ট আইনানুগ ব্যবস্থা রাখা হলো। ধারা ১৮ ও ২০ সংশোধন করে এই বিধানগুলো আরও জোড়ালো করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সংগঠন বা ব্যক্তির প্রচার-প্রচারণা, মিছিল, সভা ও জনসম্মুখে বক্তৃতা দেওয়ার মতো কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করা যাবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন এবং সরাসরি কণ্ঠভোটে তা অনুমোদিত হয়। বিলের আওতায়, বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যাতে সংগঠন বা ব্যক্তির কার্যকলাপ বন্ধ করা যায়। এই আইনটি কার্যকর হবে ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি এবং আজকের দিনের পূর্বে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। বিলের উদ্দেশ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে সব ধরনের মামলা ও কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য এই নতুন আইনের প্রয়োজন হয়েছে। এই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা ফ্যাসিবাদী শাসনবিরোধী আন্দোলনে এক বড় অংশ ছিল, যা বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অভ্যুত্থানের সময় জনতার প্রতিরোধ, হত্যাকাণ্ড, এবং সামরিক আক্রমণ বন্ধে অংশ নেওয়া এসব গণঅভ্যুত্থানকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই আইন প্রণয়ন করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ঐ সমস্ত আন্দোলনকারীদের বিচারপ্রক্রিয়া এখনও চলমান থাকায়, এই কার্যক্রম দ্রুত বন্ধের জন্য এই বিল অনুমোদন প্রয়োজন বলে মনে করা হয়। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ও সুবিধা চালু ছিল। তবে এখন সেই সব সুবিধা বাতিল করে দেওয়া হলো। এর বিরুদ্ধে কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন ছাত্র ও নেতাকর্মী আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। ২০২৫ সালের মে মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ জারি হয়, যা এখন এই বিলের মাধ্যমে আইনি রূপ পেল। বিলটির পাসের সময় বিরোধী পক্ষের নেতারা কিছুটা সময় চান আইনটি দেখার জন্য, কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিরোধীরা সময় না দেওয়ায় তারা আপত্তি করতে পারেননি। তবে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, এই আইন সন্ত্রাস বিরোধী কার্যক্রম শক্তিশালী করবে এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তবে এর ফলে, আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর কার্যক্রম স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। SHARES রাজনীতি বিষয়: