প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৮:০৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে সৌদি আরবে

পৌঁছেছে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি শক্তিশালী বহর। দুই দেশের মধ্যে

ইতিপূর্বে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে

শনিবার সৌদি আরবের কিং আবদুল আজিজ বিমানঘাঁটিতে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান, সহযোগী

বিমান এবং সেনাসদস্যরা অবতরণ করেন। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পাকিস্তানি

বাহিনীর এই আগমনের খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে এবং মার্কিন বার্তা সংস্থা

এপি এই গুরুত্বপূর্ণ মোতায়েনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।

পাকিস্তানের এই সামরিক মোতায়েন মূলত গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশ দুটির মধ্যে স্বাক্ষরিত

একটি সর্বাত্মক প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ। সেই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল—যেকোনো

এক দেশের ওপর বহিঃশত্রুর হামলা হলে তা উভয় দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। এই

পারস্পরিক প্রতিরক্ষা বা ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স’ নীতির আলোকেই বর্তমানে সৌদি আরবের

কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে পাকিস্তানের সেনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট

মোতায়েন করা হচ্ছে। এটি কেবল একটি প্রতীকী অংশগ্রহণ নয়, বরং বড় ধরণের সামরিক

সহযোগিতার একটি প্রাথমিক ধাপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি বাহিনীকে কিং আবদুল আজিজ

বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়েছে, যা ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল।

সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের উত্তাল সময়ে এই বিমানঘাঁটিটি বেশ কয়েকবার ড্রোন এবং

দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছিল। এমতাবস্থায় পাকিস্তানের অভিজ্ঞ

বিমানবাহিনী ও আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোর উপস্থিতি এই ঘাঁটির আকাশ প্রতিরক্ষা

ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও নিশ্ছিদ্র করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই যৌথ মোতায়েনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সৌদি আরব জানিয়েছে যে, এর মূল লক্ষ্য হলো দুই

ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে পেশাদার সমন্বয় বৃদ্ধি করা। এর মাধ্যমে

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো ধরণের

উস্কানিমূলক হামলার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

পাকিস্তান ও সৌদি আরবের এই গভীর সামরিক সখ্যতা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক

পরিস্থিতিতে শক্তির এক নতুন ভারসাম্য তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই দেশের এই

ঐক্যবদ্ধ অবস্থান মূলত এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি সুদূরপ্রসারী

বার্তা দিচ্ছে।