চামড়া শিল্পের জন্য কর-ভ্যাট ছাড়ের দাবি জানালো উদ্যোক্তারা Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৩৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০২৬ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত হিসেবে পরিচিত চামড়া শিল্পের টিকে থাকার জন্য উদ্যোক্তারা কর ও ভ্যাট ছাড়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে, ট্যানারি শিল্পে ব্যবহৃত ৪৩ ধরনের কেমিক্যালে শুল্ক ও কর কমানোর দাবি জানানো হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) মনে করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে উৎপাদন ব্যয় কমানো জরুরি। ভারত, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারলে দেশের রফতানি ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা আরও বলছেন, শতভাগ রফতানিমুখী ট্যানারি কারখানার জন্য কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত কেমিক্যাল ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে উৎস কর ও ভ্যাট পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে। উদ্যোক্তারা আরও দাবি করেন, পচনশীল কৃষিপণ্য হিসেবে কাঁচা চামড়ার ওপর ৩ শতাংশ উৎস কর আরোপ করা হয়েছে, যা শিল্পের জন্য অতিরিক্ত বোঝা সৃষ্টি করছে। তারা এই কর বাতিল করে কাঁচা চামড়াকে করমুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। শিল্প মালিকরা জানাচ্ছেন, বিদ্যুৎ, পানি ও জ্বালানির ওপর ভ্যাটমুক্ত সুবিধা কার্যকর করতে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে হবে, কারণ এ ধরনের সুবিধা প্রয়োগে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বর্তমানে, ট্যানারি খাতে ব্যবহৃত কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি ও এক্সেসরিজের বেশিরভাগই আমদানিনির্ভর, যেখানে শুল্ক ও করের মোট বোঝা ৩০ শতাংশের বেশি। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং প্রতিযোগিতা কমছে। বর্তমান নীতিমালায় শর্তসাপেক্ষে কিছু শুল্ক ছাড় থাকলেও কেমিক্যালের ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমানো এখনো সম্ভব হয়নি। এ পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তারা প্রস্তাব দিয়েছেন, মূল্যভিত্তিক শুল্কের ৩ শতাংশের বেশি অংশ অব্যাহতি এবং ভ্যাট কমিয়ে নির্ধারণ করা হোক ৭.৫ শতাংশ। তারা মনে করেন, এসব সুবিধা দিলে চামড়া শিল্প আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে, অনিয়মিত আমদানি হ্রাস পাবে এবং উৎপাদন ও রফতানি বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে, দীর্ঘমেয়াদে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে বলে তারা আশাবাদী। SHARES অর্থনীতি বিষয়: