নতুন ইতিহাস গড়ল সংসদ, একই দিনে ৯১ বিল পাস

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০২৬

বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা ঘটেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকের প্রথম অধিবেশনের মাত্র ১৩ কার্যদিবসে সর্বোচ্চ সংখ্যক ৯১টি বিল পাসের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এই বিশেষ সময়ে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বিভিন্ন সংবিধিবদ্ধ অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করার জন্য মোট ২৪টি বিল পাস হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’, এবং ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’। এভাবে মাত্র ১৩ দিনে মোট ৯১টি বিল পাসের ইতিহাস রচিত হলো, এর আগের দিন যেখানে ৩১টি বিল পাস হয়েছিল।

পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সুবিধার সাথে সংশ্লিষ্ট। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিল যেমন নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও রংপুরের উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিল পাস করেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) বিলটি এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বনশিল্প উন্নয়ন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিল পাস করেন। অন্যদিকে, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আমানত সুরক্ষা, এক্সাইজেস ও সল্ট, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক, ও গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিলসহ বেশ কয়েকটি আর্থিক ও ব্যাংকিং সংশ্লিষ্ট বিল পাস করেন। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি ও বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সংশোধনী বিলগুলো এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা ও সাইবার সুরক্ষা বিল পাস করেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন শিশু ও নারীর নির্যাতন দমন সংশোধনী বিল পাসের প্রস্তাব রাখেন এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান ফেব্রুয়ারি গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬ এর পাসে সমর্থন দেন।

এ ছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল ২০২৬ উত্থাপন করেন এবং তা ভোটে পাস হয়। বিশেষ করে, অর্থমন্ত্রী বিলটি উত্থাপন করলে বিরোধীদলীয় সদস্য সাইফুল ইসলাম মিলন সেটিতে বিরোধিতা করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভোটের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্তের উপর ভোট দেন, যেখানে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

অপরদিকে, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ এর প্রস্তাব করেন। কিছু সংসদ সদস্য সংশোধন প্রস্তাব করলে স্পিকার তা গ্রহণ করেন এবং বিলটি এই সংশোধনীর সাথে সংসদে পাস হয়। তবে, এর বিরুদ্ধে বিরোধী দল কিছুক্ষণ বিতর্ক করে এবং শেষে ওয়াকআউট করে।

অধিবেশনের শেষ দিকে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এর পাসের প্রস্তাব করেন, যা সর্বসম্মতিতে কণ্ঠভোটে পাস হয়। এই ধারাবাহিক কার্যক্রমে, সংসদ নতুন রেকর্ড স্থাপন করল এবং বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সংসদীয় কার্যক্রমের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখল।