কোটালীপাড়ায় খোলা ট্রাকে ইট-বালু পরিবহন, মানুষ দুর্ব্যবহার ও ঝুঁকির মুখে

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০২৬

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন সড়কে খোলা ট্রাকে ইট ও বালু পরিবহনের কারণে সাধারণ মানুষ ব্যাপক চরম বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছেন। উড়ন্ত বালু, ধুলাবালি ও ইটের ক্ষয়ক্ষতির কারণে দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বেড়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার গ্রামীণ ও প্রধান গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দিয়ে কোনো ধরণের সুরক্ষা ঢাকনা ছাড়া ট্রাকগুলো ইট ও বালু পরিবহন করছে। এতে করে এসব যানবাহনের পেছনে থাকা মোটরসাইকেল, অটোভ্যান ও অন্যান্য ছোট যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছেন। চলন্ত ট্রাক থেকে উড়ে আসা বালু চোখে-মুখে ঢুকে অনেক সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়, যা মারাত্মক ঝুঁকি বহন করছে। একইভাবে কোনও ঢাকনা ছাড়াই ইট পরিবহনের ফলে ইট পড়ে দুর্ঘটনা ঘটবার সুযোগ বাড়ছে।

ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক সোহেল মিয়া বলেন, “ট্রাকের পেছনে থাকলে আর কিছু দেখা যায় না। চোখে বালু ঢুকে যায়, তখন কিছু বুঝতেও পারিনা। ব্রেক করতে হয় অবিলম্বে, এতে বড় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকছে।”

অটোভ্যান চালক আব্দুল করিম বলেন, “আমরা যাত্রী নিয়ে চলাচল করি। কিন্তু বালুর ধুলায় যাত্রীরা ঠিক মতো বসতে পারে না। সবাই বিরক্ত এবং এতে আমাদের রোজগারও কমে যাচ্ছে।”

পথচারী রোজিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “রাস্তা দিয়ে হাঁটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। বালু এসে কাপড় নোংরা করে দেয়, শ্বাস নেওয়াও কষ্টকর। ছোট বাচ্চাদের সাথে চলাফেরা ভারী হয়ে উঠেছে।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, খোলা ট্রাকে ইট ও বালু পরিবহন সম্পূর্ণরূপে নিয়মবহির্ভূত এবং এটি দেশের সড়ক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। তারা দ্রুত প্রশাসনের কার্যকরি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কুমার মৃদুল দাস বলেন, “খোলা ট্রাকে বালু পরিবহনের কারণে বাতাসে ধুলার পরিমাণ বেড়ে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসতন্ত্রের নানা রোগের কারণ হতে পারে। এ জন্য বাধ্যতামূলকভাবে ট্রাকগুলো ঢেকে পরিবহন করতে হবে।”

অপর দিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খুব শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে খোলা ট্রাকে ইট-বালু পরিবহন বন্ধ করে নিয়ম অনুযায়ী পরিবহন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় জনদুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে তারা।