চамড়া শিল্পে ব্যবহৃত ৪৩ ধরনের কেমিক্যালে কর ও ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবী

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০২৬

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত চামড়া শিল্পের টিকে থাকার স্বার্থে কর ও ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিল্প উদ্যোক্তারা। বিশেষ করে ট্যানারি শিল্পে ব্যবহৃত ৪৩ ধরনের কেমিক্যালের আমদানিতে শুল্ক ও কর কমানোর বিষয়টি তারা গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনাসভায় এই দাবি জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) প্রতিবেদনে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা টিকিয়ে রাখতে উৎপাদন ব্যয় কমানো অত্যন্ত জরুরি। ভারত, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশের সাথে পাল্লা দিতে না পারলে রফতানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তারা মনে করেন। শিল্প মালিকেরা বলছেন, শতভাগ রফতানিমুখী ট্যানারিগুলোতে কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত কেমিক্যাল ও যন্ত্রপাতির আমদানি पर উৎসকর ও ভ্যাট পুরোপুরি বাতিল করা দরকার। তারা আরও যোগ করেন, কাঁচা চামড়া একটি পচনশীল কৃষিপণ্য হওয়ার পরও এর ওপর ৩ শতাংশ উৎস কর আরোপ করা হয়েছে, যা শিল্পের জন্য অতিরিক্ত বোঝা সৃষ্টি করছে। তাই এই কর বাতিল করে কাঁচা চামড়াকে করমুক্ত করার দাবি জানাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। শিল্পের নেতারা আরও জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ, পানি ও জ্বালানির ওপর ভ্যাটমুক্ত সুবিধা কার্যকর করতে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা জরুরি, কারণ এসব ক্ষেত্রে বাস্তবায়নে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বর্তমানে ট্যানারি খাতে ব্যবহৃত কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি এবং আনুষঙ্গিক সামগ্রীর বেশিরভাগই আমদানিনির্ভর। এসব পণ্যে বিভিন্ন শুল্ক ও কর মিলিয়ে মোট করের বোঝা ৩০ শতাংশের বেশি, যা উৎপাদন খরচ বাড়াতে এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। বর্তমান নীতিমালায় শর্তসাপেক্ষে কিছু শুল্ক ছাড় থাকলেও কেমিক্যাল আমদানিতে ভ্যাট এখনও ১৫ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তারা প্রস্তাব দিয়েছেন, মূল্যভিত্তিক শুল্কের ৩ শতাংশের বেশি থেকে ছাড় দেওয়া হোক এবং ভ্যাট কমিয়ে ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হোক। এতে করে ট্যানারি শিল্পের প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়বে, অনিয়মিত আমদানির প্রবণতা কমবে এবং উৎপাদন ও রফতানি বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পর্যায়ে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়তে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।