আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদকে আবেদন Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৩১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৯, ২০২৬ অস্ত্রের কাঠামোর মধ্যে, সাম্প্রতিককালে সংঘটিত দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং তার পিএস মাসুমের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি আবেদন জমা পড়েছে। ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন বুধবার (৮ এপ্রিল) এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি এবং পদায়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম, ঘুষ লেনদেন ও নীতিমালা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে, প্রতিটি বদলিতে জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলস্বরূপ, মোট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারি এক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে অন্তত ২৮২ জনকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে কমপক্ষে ২০০ জনের বদলি ঘুষের মাধ্যমে পছন্দের অফিসে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক বদলি, মাত্র আট মাসের মধ্যে, এর আগে কখনো দেখা যায়নি বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। আবেদনকারীরা আরও উল্লেখ করেন, বদলির জন্য নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী এ, বি ও সি গ্রেডের অফিসে একই গ্রেডের কর্মকর্তাদের পদায়ন করার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, ঘুষের বিনিময়ে সি ও বি গ্রেডের সাব-রেজিস্ট্রারদের নিচের গ্রেডের অফিসে বা উচু গ্রেডের অফিসে বদলি করা হয়েছে। এমনকি যোগদানের আগে দিনও বদলির আদেশ পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করা হয়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বদলি-বাণিজ্যের মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে, গত বছরের ১ জুনই আইন মন্ত্রণালয় আর্থিক লেনদেন নিষিদ্ধ করে একটি সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়, জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণরূপে নিষেধ। তবে, অভিযোগের তীরটি এতে হতাশ করে যায় যে, এই বিজ্ঞপ্তির জারির আগেই শত শত বদলিতে বিপুল অঙ্কের ঘুষের লেনদেন হয়ে গেছে। আবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট আইন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আসিফ নজরুল বেশ কিছু জেলা রেজিস্ট্রারের পদোন্নতি ও বদলির আদেশ দেন। প্রথম দফায় ১৭ জন সাব-রেজিস্ট্রারকে বদলি করা হয় ২৯ সেপ্টেম্বর, যেখানে কিছু কর্মকর্তাকে নীতিমালা ভঙ্গ করে গ্রেডের বাইরে পদায়ন করা হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, নীলফামারীর জলঢাকার সাব-রেজিস্ট্রার মনীষাকে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে বদলি করা হয়। কিন্তু চার মাসের মধ্যেই আবার তাকে দিনাজপুরের হাকিমপুরে বদলি করার নির্দেশ আসে। এর আগে যোগদানের আগের দিনই আবার তাকে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে বদলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই ধরনের বহু উদাহরণ আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, এই দুর্নীতির মাধ্যমে সবকিছু চলে আসছে মূলত আইন উপদেস্টার পিএস শামসুদ্দিন মাসুমের মাধ্যমে। তিনি বলেন, বদলি-বাণিজ্যের বাইরেও, ‘অনুরোধ’ ও ‘নির্দেশ’ ভিত্তিক দুর্নীতির খবরও রয়েছে। এসব বিষয়কে যথাযথভাবে তদন্ত করে দুষ্কৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুদকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আবেদনকারীরা আরও অনুরোধ করেছেন, যদি এই মুহূর্তে দুদক কোনো অনুসন্ধান শুরু করে থাকেন, তাহলে তাদের সেই তথ্য তাঁদের জানাতে। SHARES জাতীয় বিষয়: