ইরানকে ‘গুঁড়িয়ে’ দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ১:০৪ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২৬

ইরানের সঙ্গে প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে তেহরান কোনো চুক্তিতে না পৌঁছালে

মঙ্গলবার রাত (যুক্তরাষ্ট্রের সময়) থেকেই দেশটির বেসামরিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং

সেতুগুলোতে ব্যাপক হামলার নির্দেশ দেবেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড

ট্রাম্প জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি

দেন। এর আগে তিনি ইরানের ওপর কিছু শর্ত চাপিয়ে দিয়ে তা মেনে নেওয়ার জন্য ওয়াশিংটন

ডিসির স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টা (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা) পর্যন্ত

সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্রের মোহ ত্যাগ করতে হবে এবং

তেলের বিশ্ববাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে। তিনি বলেন,

‘পুরো দেশটিকে এক রাতেই গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব এবং সেই রাতটি হতে পারে আগামীকাল

(ইরানের সময় বুধবার ভোররাত) রাত।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আমি আশা করি এমন পদক্ষেপ আমাকে যেন নিতে না হয়। তবে

আমাদের হাতে এমন পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে বুধবার মধ্যরাতের মধ্যেই ইরানের

প্রতিটি সেতু ধ্বংস করে দেওয়া হবে। দেশটির প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এমনভাবে

জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া হবে যে, সেগুলো আর কখনোই ব্যবহারের যোগ্য থাকবে

না।’

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা যদি চাই তবে মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে পুরো ধ্বংসযজ্ঞ

সম্পন্ন করা সম্ভব। যদিও আমরা চাই না এমন কিছু ঘটুক।’

বেসামরিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করছেন সমালোচকরা।

তবে সোমবার হোয়াইট হাউসের লনে শিশুদের জন্য আয়োজিত এক ইস্টার অনুষ্ঠানে এই অভিযোগ

উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এ নিয়ে চিন্তিত নই। আপনারা জানেন যুদ্ধাপরাধ কী?

পারমাণবিক অস্ত্র থাকাই হলো যুদ্ধাপরাধ।’

একই সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, ইরান সংঘাত শুরু

হওয়ার পর থেকে সোমবার সবচেয়ে শক্তিশালী হামলা চালানো হয়েছে এবং মঙ্গলবার এর চেয়েও

ভয়াবহ হামলা হতে পারে।

এর আগে ইস্টার অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছে যা

তাৎপর্যপূর্ণ হলেও তাদের জন্য ‘যথেষ্ট নয়’। তিনি বলেন, ‘তাদের কিছু নির্দিষ্ট কাজ

করতে হবে। তারা তা জানে এবং আমি মনে করি তারা সদিচ্ছা নিয়েই আলোচনা করছে।’

কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অসংখ্য

‘ইন্টারসেপ্ট’ বা আড়ি পাতা বার্তা রয়েছে যেখানে সাধারণ ইরানিরা তাদের সরকারকে

ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচেষ্টায় নতি স্বীকার না করার জন্য আরজি জানাচ্ছে। ট্রাম্পের

ভাষায়, ‘মুক্তির স্বাদ পেতে তারা এই কষ্ট সহ্য করতেও রাজি।’