টেকনাফ স্থলবন্দর চালুর উদ্যোগের মাধ্যমে সীমান্তে বাণিজ্য সচল করার লক্ষ্য Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৩৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০২৬ বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত টেকনাফ স্থলবন্দর প্রায় এক বছর ধরে অচলাবস্থায় পড়ে ছিল। মিয়ানমারে চলমান অস্থিতিশীলতা ও সীমান্ত নিরাপত্তার ঝুঁকি এই পরিস্থিতির জন্য বড় কারণ ছিল। তবে পরিস্থিতির উন্নতি ও ধারণক্ষমতা বিবেচনায় সরকার এখন ফের এই বন্দরের চালু করার পরিকল্পনা নিচ্ছে। এ জন্য নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান সোমবার টেকনাফস্থলবন্দর এলাকা পরিদর্শন করেন। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি কেরুনতলী এলাকার নাফ নদীর তীরে অবস্থিত বন্দরে পৌঁছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া তিনি বন্দরের গুদামঘর, অবকাঠামো ও বর্তমান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে সংবাদমাধ্যমকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্দরটি পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, কাস্টমস এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনগণের চাহিদা এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে দ্রুত এই বন্দর সচল করার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে সমন্বয় করে সীমান্ত বাণিজ্য স্বাভাবিক করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। এজন্য বন্দরসংলগ্ন কার্যক্রমের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। পোর্টঅপারেটর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—কোনো অবস্থাতেই রোহিঙ্গাদের বন্দর কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে দেওয়া হবে না। কাজ করতে হলে অবশ্যই বাংলাদেশের বৈধ নাগরিক হতে হবে এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রত্যয়নপত্র বাধ্যতামূলক। কেউ যদি অনুপ্রবেশে সম্পৃক্ততা proves এই জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশের স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মুহাম্মদ মানজারুল মান্নান বলেন, বন্দরের আনুষ্ঠানিকভাবে খোলা থাকলেও দীর্ঘদিন নিরাপত্তার জন্য কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে আবার পণ্য আমদানি-রপ্তানি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্দরে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে দেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত অর্থ বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে সরকার। স্থানীয় বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ৬৪০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল, কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে মাত্র ১৩০ কোটি টাকা এসেছে। টেকনাফস্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, দ্রুত বন্দর চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। এক বছরের ক্ষতি কাটিয়ে উঠার জন্য ব্যবসায়ীরা অপেক্ষায় আছেন। উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত, আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ এবং চলমান পরিস্থিতির কারণে সীমান্তে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়। গত বছরের এপ্রিল মাসে পণ্যবাহী জাহাজ থেকে চাঁদা দাবির ঘটনার পর বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। আশা করা হচ্ছে, এই উদ্যোগ সফল হলে সীমান্তে বাণিজ্য আবার সচল হবে এবং অর্থনৈতিক শুভ সূচনা হবে। SHARES সারাদেশ বিষয়: