সরকার নতুন নিলামে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৩৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০২৬ অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে সরকারের ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ গ্রহণের ধারাবাহিকতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যে নিয়মিত ধারার বাইরে বিশেষ ধরনের নিলামের মাধ্যমে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর জন্য আগামী ৮ এপ্রিল ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের এক বিশেষ নিলাম আয়োজন করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র জানায়, রাজস্ব আয়ের ঘাটতি এবং ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের অর্থ সংগ্রহের বিকল্প উপায় খুঁজে নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রচলিত তহবিলের পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি ঋণ গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে। এর আগে ১ এপ্রিল একই মেয়াদের ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে ৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এই ধারাবাহিকতা সরকারের নগদ প্রবাহে চাপের ইঙ্গিত দেয় বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সরকারের ব্যয় বেড়েছে নানা কারণের জন্য। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যয়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আয় ধীরগতির কারণে এই চাহিদা বাড়ছে। এর পাশাপাশি, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্যও অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ২৮ শতাংশ কম রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা সরকারকে আরও বেশি অর্থ সংগ্রহের চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম—যেমন নতুন কার্ডভিত্তিক প্রকল্প ও কৃষি ঋণ মওকুফ—এসবেও তহবিলের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারনত, বাজেটের ঘাটতি পূরণে সরকার ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে। স্বল্পমেয়াদি প্রয়োজনের জন্য ট্রেজারি বিল আর দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য বন্ড ব্যবহৃত হয়, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হয়। তবে, অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বর্তমানে, দেশের বেসরকারি খাতের ঋণের চাহিদা কম থাকায় ব্যাংকগুলো সরকারি সিকিউরিটিজে বেশি বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে, যা এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। ফেব্রুয়ারি এবং মার্চেও এই প্রবণতায় খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। অন্যদিকে, গত বছরের জুলাই থেকে এই মার্চ, অর্থাৎ প্রায় এক বছরের সময়কালে সরকার ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় ৯৮ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৫ শতাংশ। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে, বাকি অংশ ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নেওয়া। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপের কারণে সরকারের ঋণনির্ভরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সামষ্টিক অর্থনীতিতে ভবিষ্যতে প্রভাব ফেলতে পারে। SHARES অর্থনীতি বিষয়: