নতুন সময়সূচির প্রভাব: শেয়ারবাজারে বড় দরপতন ও লেনদেন কমলো

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৬, ২০২৬

জ্বালানি সংকটের কারণে সরকার নতুন অফিস সময়সূচি কার্যকর করেনি, এর প্রভাব পড়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। এর ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম পতনের মুখে পড়েছে, সঙ্গে বাজারের সূচকগুলোতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

রবিবার (৫ এপ্রিল) এই নতুন সময়সূচি কার্যকর হওয়ার সাথে সাথেই বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা দেয়। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অফিসের সময় পরিবর্তনের পাশাপাশি ব্যাংক ও শেয়ারবাজারের লেনদেনের সময়ও কমানো হয়েছে।

লেনদেন শুরুর প্রথম থেকেই শেয়ারের দাম কমতে শুরু করে, যার ফলে বাজারের সূচকগুলো নিম্নমুখী হয়ে যায়। দিনের শেষ পর্যন্ত এই পতন অব্যাহত থাকে, এমনকি আরও তীব্র হয়। ডিএসইতে লেনদেন শেষে মাত্র ২৫টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, আর ৩৫৪টির দর কমে গেছে। এছাড়া ১১টির দাম অপরিবর্তিত থাকে।

বিশেষ করে ভালো লভ্যাংশপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম পতন বেশি লক্ষ্য করা গেছে। এ ধরনের ১৭টির দাম বৃদ্ধি পেলে, ১৭৮টির দর কমেছে এবং ৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি লভ্যাংশের কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪টির দাম বেড়েছে, ৭৫টির দর কমে গেছে, আর ১টি অপরিবর্তিত থাকে।

‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪টির দাম বেড়েছে, তবে ১০১টির দর কমেছে এবং ২টির দাম অপরিবর্তিত। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডেও একই চিত্র দেখা গেছে— ১টির দাম বেড়েছে, ৩০টির দর কমেছে এবং ৩টি অপরিবর্তিত রয়েছে।

অধিকাংশ শেয়ার মূল্য কম থাকায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০৭ পয়েন্ট কমে ৫,০১২ পয়েন্টে পৌঁছায়। শরীয়াহ সূচক ১৮ পয়েন্ট কমে ১,০৪১ পয়েন্টে নামতে বাধ্য হয়। পাশাপাশি ডিএসই-৩০ সূচক ৩৫ পয়েন্ট কমে ১,৯৪৫ পয়েন্টে অবস্থান করে।

লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ঐদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয় ৫১১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, যা আগের দিন থেকে ১১৪ কোটি টাকা কম।

শীর্ষ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ ছিল শীর্ষে, যার লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এরপর রয়েছে একমি পেস্টিসাইড ও সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট যথাক্রমে।

অন্য শীর্ষ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে ছিল ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স, ওরিয়ন ইনফিউশন, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, জনতা ইন্স্যুরেন্স, ফাইন ফুডস এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই চিত্র দেখা গেছে। সিএএসপিআই সূচক ২২৮ পয়েন্ট কমে যায়। সেখানে ১৯০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৩টির দাম বেড়েছে, ১৪৮টির দর কমে গেছে এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা।