অপরাজিত বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন, ভারতকে টাইব্রেকারে হারাল

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০২৬

মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অনুষ্ঠিত এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল প্রতিযোগিতার ফাইনালে বাংলাদেশের তরুণরা ঐতিহাসিক সফলতা অর্জন করেছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানের ঐতিহাসিক জয় দিয়ে দেশটির ফুটবলে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। শুক্রবার রাতে ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য ড্র থাকায় ম্যাচ গড়ায় ভাগ্যনির্ধারণী পেনাল্টি শ্যুটআউটে। এই উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশের জন্য সব কিছুই ছিল একদম নাটকীয় এবং রোমাঞ্চকর। আমেরিকান প্রবাসী ফুটবলার রোনান সুলিভান শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত শটে দলের জয় নিশ্চিত করেন। এই জয় দিয়ে বাংলাদেশের তরুণেরা আবারও প্রমাণ করল, তারা দক্ষিণ এশিয়ার বয়সভিত্তিক ফুটবলে বদলে দিতে পারেন তাদের মানচিত্র।

প্রথমার্ধে দুই দলই ব্যাপক আক্রমণ চালালেও বাংলাদেশ কিছুটা এগিয়ে ছিল মাঠের নিয়ন্ত্রণে। দ্বিতীয়ার্ধে ভারতের আক্রমণ প্রবলতর হলেও বাংলাদেশ রক্ষণ অত্যন্ত সুদৃঢ় ছিল। বাংলাদেশ কোচা পরিকল্পনা অনুযায়ী কৌশলগতভাবে খেলা চালিয়ে, বেশ কয়েকটি সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করে গেছে। বিশেষ করে ডেকলান সুলিভান, রোনানের ভাই, দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে বদলি হিসেবে মাঠে নামার পর বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানমূলক আক্রমণে দারুণ পারফর্ম করেন। ম্যাচের শেষদিকে, ডেকলানের নিখুঁত পাশ থেকে রোনান গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু ভারতের গোলরক্ষক এগিয়ে এসে তা রুখে দেন।

টাইব্রেকারে সবথেকে নাটকীয় মুহূর্ত তখন আসে যখন ভারতের প্রথম শট উপভোগ করে প্রথম গোল করে। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহিন বেশ কয়েকবার দুর্দান্ত সেভ করে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেন। এরপর বাংলাদেশের গোলরক্ষকদের লক্ষ্যভেদ করে তিনজনই পরপর গোল করেন। তবে চতুর্থ শটের সময় ছিল অত্যন্ত নাটকীয়। বাংলাদেশের স্যামুয়েল শট নিতে গেলে ভারতের গোলরক্ষক চোটের অজুহাতে সময় নেন, এতে মনোযোগভঙ্গ হয়। ফলশ্রুতিতে, তার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। তৃতীয় শট শেষে স্কোর ৩-৩ সমান হয়।

শেষ মুহূর্তে, ভারতের সর্বোচ্চ গোলদাতা শট নেয়ার জন্য এগিয়ে আসেন, কিন্তু তাঁর শট খুব বেশি ওপরে চলে যায়। এ সময়, বল হাতে এগিয়ে আসেন রোনান সুলিভান। পুরো টুর্নামেন্টে ভারতের রক্ষণকে পরীক্ষা দিয়ে ফাইনালে একনিষ্ঠ মনোভাব দেখিয়ে, তিনি ঠাণ্ডা মাথায় শট নেন এবং বল জালে জড়িয়ে দেন। এই গোলের সঙ্গে সঙ্গে গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার বাংলাদেশি দর্শক উদ্দীপনায় ঝঞ্ঝার সৃষ্টি করেন।

শুক্রবারের এই ঐতিহাসিক ফাইনালকে কেন্দ্র করে মালদ্বীপে বাংলাদেশের প্রবাসীরা ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখিয়েছেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় তারা দল বেঁধে গ্যালারিতে এসে নিজেদের দেশের তরুণ ফুটবলাদের সমর্থন জুগিয়ে যান। ম্যাচের কৌশলগত দিক থেকে এই দুই দলের মধ্যে খুবই জমজমাট লড়াই হয়েছিল। সব বাধা জয় করে, বাংলাদেশ এখন সদা প্রস্তুত, তাদের এখন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দ। এই জয় বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎকে নতুন প্রাণবন্ততা যোগ করবে বলে আশাবাদী ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। এটি নিঃসন্দেহে দেশের তরুণ ফুটবলারদের জন্য এক বিরাট উৎসাহের উৎস।