অটুট রপ্তানি আয়ে বিভাজন: মারাত্মক ধসের মধ্যেও কিছু সূচক উন্নতি

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০২৬

বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। গত মার্চ মাসে দেশের পণ্য রপ্তানি আয় এপ্রিলে প্রকাশিত রিপোর্টে জানানো হয়েছে যে, এই মাসে রপ্তানি আয় $৩৪৮ কোটি ডলার, যা ঘটেছে গত বছরের একই মাসের তুলনায় $৭৭ কোটি ডলার বা প্রায় ৯ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকার হতাশাজনক কমে। ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে রপ্তানি আয়ের মোট পরিমাণ עומাদেশের হিসাবে $৩৫৩৯ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ কম। এটি বাংলাদেশের রপ্তানি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা আট মাস রপ্তানি কমার নজির সৃষ্টি করেছে, যা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য এক বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপর্যয়ের জন্য মূলত অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক কিছু কারণ দায়ী। যেমন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের ফলस्वরূপ মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা ও প্রতিযোগিতা কমে গেছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে চীন, ভিয়েতনাম ও ভারতের মতো প্রতিযোগী দেশগুলি কম দামে পণ্য সরবরাহকরে ভয়ংকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে আসছে। মার্চ মাসে ঈদুল ফিতরের ছুটির কারণে কারখানাগুলো গড়ে ১০ দিন বন্ধ থাকায় উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশ সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা সরাসরি রপ্তানি কমিয়ে দিয়েছে।

বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের অবস্থা আরও খারাপ। গত মার্চে পোশাক রপ্তানি কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ, যেখানে গত বছরের একই সময়ে রপ্তানি ছিল ৩৪৫ কোটি ডলার, এবারে তা এসে দাঁড়িয়েছে ২৭৮ কোটি ডলারে। এই পরিস্থিতির জন্য জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিসহ অন্যান্য জটিলতা দায়ী। বিজিএমইএর পরিচালক এবিএম শামসুদ্দিন বলছেন, মার্কিন শুল্ক নীতির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অস্থিরতা রপ্তানি খাতে অন্যান্য চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছে।

রপ্তানির অন্যান্য খাতগুলোও ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। হোম টেক্সটাইলের রপ্তানি গত ৯ মাসে ২১ শতাংশ কমেছে, ওষুধের রপ্তানি ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। চামড়া ও পাট পণ্য ৭ ও ১৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সবচেয়ে দুর্যোগযুক্ত হলো সবজি রপ্তানি, যা প্রায় ৪৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে সব খারাপের মধ্যে কিছু সূচক ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে। প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি ১৬ শতাংশ, হিমায়িত মাছের রপ্তানি ৫ শতাংশ এবং কাঁকড়ার রপ্তানি ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব অগ্রগতি স্বস্তি দিচ্ছে কিছুক্ষণের জন্য।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের রপ্তানি পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে হলে বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করতে হবে এবং বাজারের বহুমুখীকরণ প্রক্রিয়া জোরদার করতে হবে। না হলে এই সংকট থেকে উত্তরণের পথে অনেকটাই বাধা আসতে পারে।