গণভোট নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জালিয়াতি করেছে: রাশেদ খান

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৩, ২০২৬

বিএনপি নেতা রাশেদ খান অভিযোগ করেছেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণভোটের নাম করে বড় ধরনের জালিয়াতি করেছে। তিনি বলেন, দেশের গণভোট নিয়ে নানা শঙ্কা ও বিতর্কের মাঝেই সরকার বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। রাশেদ খান তার ফেসবুক পেজে এক বিস্তারিত পোস্টে এসব কথা বলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, বাতিল হচ্ছে গণভোট অধ্যাদেশ! সংসদে বিল আকারে পাস নেনি এ আদেশ, বরং এটি একটি দুর্বোধ্য সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন। মূল বিষয় হলো, এই আদেশের ভিত্তিতে যে গণভোট হয়েছে, সেটার বিষয়েও সম্প্রতি বেশ বিতর্ক উঠেছে। ঐক্যমত কমিশনের কিছু প্রস্তাবের মধ্যে বিএনপি ও অন্য কিছু রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট ছিল, যা স্বাভাবিকভাবেই গণভোটের প্রকৃত স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্বাক্ষরিত জুনের স্বাক্ষরিত সনদেও এই সংশয় বিদ্যমান।

আন্তঃবর্তীকালীন সরকার যে বড় ধরনের জালিয়াতি করেছে, তার প্রমাণ হিসেবে রাশেদ খান বলেন, যখন গণভোটের জন্য প্রয়োজনীয় নোট অফ ডিসেন্টগুলো বাতিল করে নতুন করে প্রকাশ করা হয়, তখন বোঝা যায় সরকার চায়নি যেন সত্যিই গণমত প্রকাশ হয়। তিনি বলেন, এর পাশাপাশি আরও একটি বড় ধরনের জালিয়াতি হয়েছে, সেটি হলো- জাতীয় নির্বাচনের পরে সংসদে আলোচনা না করেই, দ্বৈত ভূমিকা দিয়ে ঐক্যমত কমিশনের আলোচনা ও সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সরকার নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে। এতে করে বাস্তবে ভোটের সময়সূচিকে অপ্রত্যক্ষভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। সাধারণত, দেশবাসী জানে, গণভোট বা ভোটগ্রহণ সাধারণত জাতীয় নির্বাচনের পরে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এইবার একযোগে বা আগে থেকেই ভোটের আয়োজন করা হয়েছে, যাতে সরকার নিজেদের সুবিধা করতে পারে। বিএনপি বলছে, যে আদেশগুলো ছিল, তা মানুষদের জন্য ব্যবহারযোগ্য, নতুন করে কিছু করার প্রয়োজন নেই।

রাশেদ খান আরও বলেন, বিএনপির দাবিই ছিল যে, সংসদে আলোচনা ও সম্মতি ছাড়া গণভোটের অনুমোদন দেওয়া উচিত নয়। তবে বিএনপির উপর অন্য বিশ্বাস না থাকায়, সরকারের চাপের মুখে ফলাফল আনা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন যে, ডিপ স্টেটের পরামর্শে ক্ষমতার দীর্ঘক্ষণ টিকিয়ে রাখতে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে এই জালিয়াতি কারার চেষ্টা হয়েছে। এখন বিএনপি বলছে, তারা এসব ব্যাপারে সজাগ থাকবেন এবং নির্বাচনের আগে যা দাবি করে এসেছেন, তার জন্য তারা প্রস্তুত।

তিনি মনে করেন, এই সব ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচন ঠেকানো, দেশের শান্তিপ্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দেওয়া। তবে বিএনপি পরিস্থিতি বুঝে বিচক্ষণতা নিয়ে সকল বিষয় মোকাবেলা করেছে বলে তিনি মনে করেন। এই অভিযোগ ও বিতর্ক এখন দেশের রাজনৈতিক আলোচনা কেন্দ্রবিন্দু।