ইসফাহানে মার্কিন সামরিক হামলা: বিভীষিকা ও তার অভিঘাত Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৭:৪৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২৬ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শহর ইসফাহানে এক ভয়ংকর সামরিক হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বিমানবাহিনী সোমবার রাতে এই আক্রমণ পরিচালনা করে, যেখানে ব্যবহৃত হয় ২০০০ পাউন্ডের অত্যন্ত শক্তিশালী ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছে, এই বিশেষ ধরনের বোমা মাটির গভীরে থাকা সুড়ঙ্গ বা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে সক্ষম। এই ভয়ঙ্কর দৃশ্যের ভিডিও পোস্ট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যেখানে দেখা যায় ইসফাহানের একটি বিশাল গোলাবারুদ ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও শক্তিশালী বিস্ফোরণের দৃশ্য। হোয়াইট হাউসের সূত্রে জানা গেছে, ট্রাম্প এই সামরিক অভিযান দীর্ঘস্থায়ী করতে চান না। তিনি আগামী চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে এই অভিযান শেষ করার পরিকল্পনা করছেন। তার মতে, ইরানের নৌবাহিনী ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ধ্বংসের প্রাথমিক লক্ষ্য ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ এখনো সম্পূর্ণরূপে খোলা না থাকলেও, ট্রাম্পের এই যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত বিশেষজ্ঞ মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই প্রণালি সচল রাখা এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কম গুরুত্বপূর্ণ, বরং ইউরোপ ও এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর স্বার্থে বেশি প্রয়োজনী। এদিকে, এই হামলার প্রতিবাদে ইরান ব্যাপকভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। রাজধানী তেহরান, কারাজ ও আরদাবিলসহ বড় বড় শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে ব্যাপক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। বিশেষ করে কারাজের একটি বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের উপর মার্কিন হামলার ফলাফলে সৃষ্ট বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যে তারা ‘সাহস, সাহস!’ স্লোগান দিয়ে প্রকম্পিত করেছেন এলাকায়। এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা তাদের দেশের সামরিক বাহিনীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছেন এবং মার্কিন আগ্রাসন রুখে দিতে সক্রিয় হওয়ার শপথ নিয়েছেন। আর এই উত্তেজনার মধ্যে আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোরও প্রতিক্রিয়া তীব্র। ইরাকভিত্তিক সংগঠন ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ দাবি করে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা বিভিন্ন মার্কিন সেনা ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে অন্তত ১৯টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই হামলার লক্ষ্য হচ্ছে মার্কিন আধিপত্য কমানো এবং ইরানের প্রতি হামলার প্রতিশোধ নেওয়া। এই পাল্টা হামলার ফলে المنطقة জুড়ে মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই সংঘাতে জের পড়ে বিশ্ববাজারে প্রভাব দেখা যাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বিশ্লেষকদের আশঙ্কা অনুযায়ী আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম এখন প্রায় ১১৬ ডলার প্রতির ব্যারেলে পৌঁছেছে, যা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, যদি এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছানো সময়ের ব্যাপার হবে। এই জ্বালানির সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী কৃষি ও প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সেমিকন্ডাক্টর চিপসের উৎপাদন শোৎ পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মোটকথা, মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে এক গভীর অনিশ্চিত পরিস্থিতির মুখে। একদিকে ট্রাম্পের দ্রুত সফলতা অর্জনের পরিকল্পনা ও অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক প্রতিরোধের সংঘর্ষ চলছে। এই অবস্থায় বিশ্বের শান্তি ও অর্থনীতি অনির্দিষ্ট এক ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যেখানে জোট ও সংঘর্ষের খেলা এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: