আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনিয়ম: সিনিয়র সহকারী সচিবের শাস্তি ঘোষণা

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৩, ২০২৬

সরকার আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে সিনিয়র সহকারী সচিব রুম্পা সিকদারকে কঠোর শাস্তি দেয়। শাস্তির অংশ হিসেবে তার বেতন দুই বছর বৃদ্ধি করবে না সরকার। রুম্পা সিকদার নলছিটির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে থাকাকালে এই অনিয়মের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি বরিশাল সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায়, বুধবার তাকে শাস্তি দিয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, রুম্পা সিকদার ২০১৯ সালের ৮ জুলাই থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরে তৃতীয় পর্যায়ে ৩০২টি ঘরের জন্য বরাদ্দ পান। এর মধ্যে থাকত মানোন্নয়ন ও নির্মাণের জন্য মোট ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা। প্রত্যাশিত ছিল, চর ষাটপাকিয়া এলাকায় ১২৮টি ঘর নির্মাণের।

তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ওই ১২৮টি ঘরের মধ্যে মাত্র ৭৩টি নির্মাণ হয়েছে, আর ৫৫টি ঘর সম্পূর্ণ নির্মাণই হয়নি। এই বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিজন কৃষ্ণ খরাতীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, তিনি ঘরগুলো নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে প্রতি ঘরের জন্য বরাদ্দ অর্থ, অর্থাৎ প্রতি ঘর ৩ লাখ ৪ হাজার টাকাসহ মোট ১ কোটি ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জমা দেয় বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রুম্পা সিকদার তার দায়িত্বকালীন সময়ে অন্য পক্ষের সঙ্গে যৌথ স্বাক্ষরে ঘর নির্মাণের জন্য অর্থ উত্তোলন করেন। কিন্তু ৫৫টি ঘর নির্মাণ না করেই তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন উত্তোলিত অর্থের কোন নথি সংরক্ষণ করেননি। বরং, কেবল চেকের স্বাক্ষর করেন। ‘গৃহ প্রদান নীতিমালা, ২০২০’ অনুযায়ী, নির্মাণের মান নিশ্চিত করতেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন, যা দায়িত্বে অবহেলার প্রকট নজির। এই ঘটনা ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’র ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হয়।

তদন্তে প্রকাশ পায়, রুম্পা সিকদার ও বিজন কৃষ্ণ খরাতীর যৌথ স্বাক্ষরে ঘর নির্মাণের অর্থ উত্তোলন হলেও, নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন না করেই তিনি এসব তথ্যের দফতরীয় নথি লিপিবদ্ধ করেননি। একজন ইউএনও হিসেবে তার দায়িত্ব ছিল, উত্তোলিত অর্থের পরিমাণ ও ব্যবহার সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ নথিপত্র সংরক্ষণ করা। এছাড়া, তার কাছ থেকে গেছে প্রশাসনিক দক্ষতার অভাব ও দায়িত্বে অবহেলার স্পষ্ট প্রমাণ।

অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা শেষে সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে, তার বিরুদ্ধে আনা ‘অসদাচরণ’র অভিযোগ নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত। তাই, সরকার তার বেতন two বছর ধরে বৃদ্ধি স্থগিতের লঘুদণ্ড প্রদান করে।